বহুপাক্ষিকতা ও সহযোগিতার বিশ্বব্যবস্থায় দুই দেশের ‘একক কণ্ঠ’; রাষ্ট্রদূতের বিশেষ বক্তৃতা
বর্তমান অস্থির বিশ্বব্যবস্থায় একতরফা শক্তির ব্যবহার নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই টেকসই শান্তি সম্ভব বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট। তিনি উল্লেখ করেন, শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স আন্তর্জাতিক আইন, বহুপাক্ষিকতা এবং নিয়ম-ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে একই অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে ‘ফ্রান্স ও বিশ্বব্যবস্থা: তাতে বাংলাদেশের অবস্থান’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পাঠকালে তিনি এসব কথা বলেন।
২৬ জানুয়ারি ২০২৬-এর এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরেন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ফরাসি বুদ্ধিজীবী আন্দ্রে মালরোর অবদান এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঢাকা সফরের কথা স্মরণ করেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ নীতি ফ্রান্সের কূটনৈতিক দর্শনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
রাষ্ট্রদূত সেরে-শার্লেট বলেন, ফ্রান্স ও বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে দূরে থাকলেও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশ আসলে প্রতিবেশী। এই অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুই দেশের কাজ করার বিশাল সুযোগ রয়েছে। তিনি বর্তমান বিশ্বের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অধিকারের প্রশ্নেও ফ্রান্স ও বাংলাদেশের অবস্থান অভিন্ন। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার প্রয়োজন হতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিকতার মূলনীতিগুলো এখনো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত দূরত্ব কমিয়ে অংশীদারত্ব আরও জোরালো করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
















