জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া সাবেক সেনা রিনা গোনোই একটি আলোচিত দেওয়ানি মামলার শেষ পর্যায়ে সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তার আইনজীবী জানিয়েছেন, জাপান সরকার এবং মামলার এক সাবেক সহকর্মীর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে এই মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
সমঝোতার আওতায় রিনা গোনোই জাপান সরকারের কাছ থেকে ১৬ লাখ ইয়েন ক্ষতিপূরণ পাবেন। তবে অভিযুক্ত সাবেক সহকর্মীর কাছ থেকে তিনি কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা আনুষ্ঠানিক ক্ষমা পাবেন না বলে জানানো হয়েছে।
এর মাধ্যমে পাঁচজন সাবেক সেনা সদস্য এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দায়ের করা গোনোইয়ের দেওয়ানি মামলা শেষ হলো। এর আগে তিনি অভিযুক্তদের মধ্যে চারজনের সঙ্গে আলাদা আলাদা সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন।
এই মামলাটি জাপানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ দেশটিতে যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে কথা বলা এখনো বিরল ঘটনা। ২০২২ সালে ইউটিউবে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে গোনোই বিষয়টি জনসমক্ষে আনেন।
এরপর জাপানে যৌন সহিংসতা নিয়ে আলোচনা কিছুটা জোরদার হয়। সাংবাদিক শিওরি ইতোসহ কয়েকটি উচ্চপ্রোফাইল মামলার পর সামাজিক সচেতনতা বাড়তে শুরু করে।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে রিনা গোনোই বলেন, প্রকাশ্যে আসার পর গত চার বছরের বেশি সময় তার জন্য ছিল অত্যন্ত দীর্ঘ ও ভারী এক অধ্যায়। তিনি জানান, এই সময়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে মুখ খুলে সত্য বলার মানসিক চাপ কতটা গভীর হতে পারে। তবে সবকিছুর পরও তিনি নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত নন বলে জানান।
চলতি মাসের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোনোই লেখেন, তার দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান হয়েছে এবং এই পথে যারা তাকে সমর্থন দিয়েছেন তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।
গোনোই আদালতে দাবি করেছিলেন, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডে তার মানসিক ক্ষতি হয়েছে এবং সে জন্য তিনি পাঁচ দশমিক পাঁচ মিলিয়ন ইয়েন ক্ষতিপূরণ চান। পাশাপাশি নির্যাতন ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও দুই মিলিয়ন ইয়েন দাবি করা হয়।
২০২২ সালে প্রকাশিত ভিডিওতে গোনোই অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে তিনজন পুরুষ সহকর্মী তাকে জোর করে মাটিতে চেপে ধরে যৌন নির্যাতন করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এক লাখের বেশি মানুষ একটি আবেদনে স্বাক্ষর করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে তার অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান।
এই ঘটনার পর আত্মরক্ষা বাহিনীতে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে এক হাজারের বেশি যৌন হয়রানির অভিযোগের তথ্য উঠে আসে।
২০২৩ সালে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত তিন সেনা সদস্যকে যৌন নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাজা স্থগিত থাকায় তাদের বাস্তবে কারাগারে যেতে হয়নি।
রিনা গোনোইয়ের এই মামলা জাপানে যৌন সহিংসতা নিয়ে নীরবতা ভাঙার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
















