যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া কূটনৈতিক উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। যদিও আলোচনা এখনো চূড়ান্ত সাফল্যে পৌঁছায়নি, তবুও তা ব্যর্থও হয়নি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে এবং বেশিরভাগ ইস্যুতে সমাধান হয়ে গেছে। বাকি বিষয়গুলো নিয়ে শিগগিরই নতুন দফায় আলোচনা শুরু হবে বলেও তিনি জানান।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের তেহরান সফর এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফর এই প্রচেষ্টারই অংশ।
৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যেও ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে আরও ইতিবাচক করেছে। ইরান এই পদক্ষেপকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সমঝোতার অংশ হিসেবে দেখছে।
ইসলামাবাদে ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আলোচনা ছিল চার দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি সংলাপ। উভয় পক্ষই এতে অংশ নিয়ে সংকট নিরসনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তবে আলোচনায় এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক এবং তাদের মজুত সরিয়ে ফেলুক। অন্যদিকে ইরান শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে সীমিত মাত্রায় সমৃদ্ধকরণের অধিকার বজায় রাখতে চায় এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বিরোধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালীতে যৌথ ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব দিলেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে উভয় পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত রয়েছে এবং পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকায় ভবিষ্যতে সমাধানের সম্ভাবনা এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনে আরও জটিল আলোচনা অপেক্ষা করছে। পারমাণবিক ইস্যু ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধ দূর করতে না পারলে স্থায়ী সমাধান পাওয়া কঠিন হবে। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগ বৈশ্বিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
















