ভেনেজুয়েলায় একশোর বেশি রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংগঠন। রাজধানী কারাকাসভিত্তিক সংগঠন ফোরো পেনাল জানিয়েছে, রোববার অন্তত ১০৪ জন বন্দিকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন তাদের এক আইনজীবী কেনেডি তেহেদা এবং যোগাযোগবিদ্যার শিক্ষার্থী হুয়ান ফ্রান্সিসকো আলভারাদো। তেহেদা ২০২৪ সালের আগস্টে কারাবন্দি হন, যখন তিনি কারাবোবো প্রদেশের একটি আটক কেন্দ্রে রাজনৈতিক বন্দিদের আইনি সহায়তা দিতে যান।
ফোরো পেনালের নির্বাহী পরিচালক আলফ্রেদো রোমেরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানান, দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর কেনেডি তেহেদা মুক্তি পেয়েছেন এবং পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন। তিনি বলেন, অন্য মুক্তির ঘটনাগুলো যাচাই করা হচ্ছে এবং সরকারিভাবে মুক্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হলে বিষয়টি আরও স্বচ্ছ হতো।
সংগঠনটির সহসভাপতি গনসালো হিমিওব জানান, এখনো চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যায়নি এবং মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রোদ্রিগেজ চলতি মাসের শুরুতে নিকোলাস মাদুরোর অপসারণের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর বিরোধী মত দমনে গ্রেপ্তার হওয়া বহু বন্দিকে মুক্তি দেওয়া একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ৬০০ জনের বেশি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে বিরোধী নেতা এদমুন্দো গনসালেসের জামাতাও রয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সরকারের ঘোষিত সংখ্যার তুলনায় বাস্তবে মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা অনেক কম।
রোদ্রিগেজ জানিয়েছেন, বন্দিমুক্তির প্রকৃত সংখ্যা যাচাইয়ের জন্য তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
ফোরো পেনালের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার কারাগারগুলোতে ৭৭৭ জন রাজনৈতিক বন্দি আটক ছিলেন।
















