মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ; বিদেশ পালানোর ছক ভেস্তে দিল আদালত
ক্ষমতার অপব্যবহার, বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের ভাই আনিস আহমেদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেনারেল আজিজ আহমেদের ক্ষমতার ছত্রছায়ায় আনিস আহমেদ ব্যাংক ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করেছেন এবং মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইতে বিলাসবহুল বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তিনি দেশত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের স্বার্থে আদালত তাঁর ওপর এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
সাবেক সেনাপ্রধানের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আনিস আহমেদের ওপর এই আইনি কড়াকড়ি আরোপ করা হলো। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের আদেশ ও দুদকের অভিযোগ
দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাত হোসেনের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত যে পর্যবেক্ষণগুলো আমলে নিয়েছেন:
- অবৈধ সম্পদের পাহাড়: জেনারেল আজিজ আহমেদ সেনাপ্রধান থাকাকালীন তাঁর পদের প্রভাব খাটিয়ে ভাই আনিস আহমেদসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে শত শত কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়েছেন।
- বিদেশে অর্থ পাচার: ব্যাংক এবং অবৈধ হুন্ডি চ্যানেলের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ সিঙ্গাপুর, দুবাই ও মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
- পালিয়ে যাওয়ার শঙ্কা: আনিস আহমেদ বর্তমানে দেশত্যাগ করে বিদেশে গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন বিশ্বস্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।
অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপট
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকেই সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির ফিরিস্তি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে।
১. পারিবারিক সিন্ডিকেট: অভিযোগ রয়েছে, আজিজ আহমেদের ভাইয়েরা তাঁর প্রভাবে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কেনাকাটা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
২. আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা: এর আগে আজিজ আহমেদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল থেকে নিষেধাজ্ঞার খবর এসেছিল, যা এখন অভ্যন্তরীণ তদন্তেও গতি এনেছে।
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
আদালতের এই আদেশের কপি ইতিমধ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগ ও পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) পাঠানো হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের এই তদন্তে আরও অনেকের নাম বেরিয়ে আসতে পারে এবং প্রয়োজনে আনিস আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য হেফাজতে নেওয়ার আবেদনও করা হতে পারে।
















