পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালালেন সোহাগ; চাঁদপুরজুড়ে রেড অ্যালার্ট ও পুনরায় গ্রেপ্তারে অভিযান
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের কঠোর পাহারা ফাঁকি দিয়ে ইসমে আজম খান ওরফে সোহাগ (৩৬) নামের এক দুর্ধর্ষ আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে তিন পুলিশ সদস্যের নজরদারি এড়িয়ে তিনি চম্পট দেন। পলাতক সোহাগ চাঁদপুর শহরের বাসিন্দা এবং তাঁর নামে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
২৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকালে চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদী মাদ্রাসা রোড এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা চোর সন্দেহে সোহাগকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ৯৯৯-এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে এবং একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি সুকৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
ঘটনার বিবরণ ও পুলিশি ভাষ্য:
- পলায়নের ধরন: সোহাগকে হাসপাতালে কড়া পাহারায় রাখা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে তিনি বাথরুমে যাওয়ার অনুমতি চান। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরও তিনি ফিরে না আসায় পুলিশ সদস্যরা বাথরুমের দরজা ভেঙে দেখেন ভেতরে কেউ নেই।
- সোহাগের পরিচয়: চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহম্মেদ জানান, সিডিএমএস (CDMS) পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সোহাগের নামে থানায় একাধিক সক্রিয় মামলা রয়েছে।
- দায়িত্বরত পুলিশ: পাহারায় থাকা তিন পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে জেলা পুলিশ।
এক নজরে মামলার তথ্য ও বর্তমান পরিস্থিতি:
| বিষয় | বিবরণ |
| আসামির নাম | ইসমে আজম খান ওরফে সোহাগ (৩৬)। |
| গ্রেপ্তারের তারিখ | ২২ জানুয়ারি ২০২৬। |
| পলায়নের স্থান | চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল। |
| অভিযোগ | চুরিসহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। |
| বর্তমান অবস্থা | পলাতক; গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। |
আসামি পালিয়ে যাওয়ার পর চাঁদপুর সদর মডেল থানার বিভিন্ন প্রবেশ পথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। ওসি ফয়েজ আহম্মেদ জানিয়েছেন, পলাতক সোহাগকে পুনরায় গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। পাশাপাশি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তাঁর পলায়নের রুট শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এ ধরনের পলায়নের ঘটনায় শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
















