বিকাশ-নগদকে টেক্কা দিতে নিজস্ব সহযোগী কোম্পানি খুলছে দেশের বৃহত্তম ব্যাংক; পর্ষদ সভায় বড় সিদ্ধান্ত
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ক্রমবর্ধমান বাজারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ একটি পৃথক সহযোগী (সাবসিডিয়ারি) কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে এমএফএস খাতে প্রবেশের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এই মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রস্তাবিত এই প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা। মূলত ২০১২ সাল থেকে নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘mCash’ পরিচালনা করলেও, এবার একটি স্বতন্ত্র ও আধুনিক সাবসিডিয়ারির মাধ্যমে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামছে এই ব্যাংকিং জায়ান্ট।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
গত ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংকের ৩৮৯তম বোর্ড সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে এই সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে ব্যাংকটির।
পুঁজি ও মালিকানার রূপরেখা
নতুন এই সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কাঠামো হবে অত্যন্ত শক্তিশালী:
- অনুমোদিত মূলধন: ১,০০০ কোটি টাকা।
- প্রাথমিক পরিশোধিত মূলধন: ৫০ কোটি টাকা (যা ব্যবসার বিস্তৃতির সঙ্গে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে)।
- শেয়ার ধারণ: ইসলামী ব্যাংক এই সাবসিডিয়ারির ন্যূনতম ৫১ শতাংশ শেয়ার নিজের কাছে রাখবে।
- বিনিয়োগ অংশীদার: বাকি ৪৯ শতাংশ শেয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন অনুসরণ করে দেশি-বিদেশি কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হতে পারে।
কেন পৃথক সাবসিডিয়ারি?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের ‘এমক্যাশ’ (mCash) ব্যাংকের একটি ইন-হাউস সেবা হিসেবে কাজ করছে। তবে নতুন সাবসিডিয়ারি গঠনের মাধ্যমে:
১. স্বতন্ত্র ব্যবস্থাপনা: পৃথক কোম্পানি হিসেবে এটি আরও দ্রুত প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও প্রচারণা চালাতে পারবে।
২. বাজার প্রতিযোগিতা: বিশাল শাখা নেটওয়ার্ক ও গ্রাহক ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে এমএফএস বাজারে শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
৩. ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি: প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে শরিয়াহভিত্তিক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা আরও সহজলভ্য হবে।
এমএফএস বাজারের বর্তমান প্রেক্ষাপট
বর্তমানে বাংলাদেশে এমএফএস খাতে কয়েক কোটি গ্রাহক সক্রিয় রয়েছে। সম্প্রতি প্রাইম ব্যাংকও তাদের নিজস্ব সাবসিডিয়ারির অনুমোদন পেয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের মতো বড় প্রতিষ্ঠান এই খাতে সরাসরি প্রবেশ করায় গ্রাহকরা আরও উন্নত ও প্রতিযোগিতামূলক ফি’তে সেবা পাওয়ার আশা করছেন।
ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জানান, “আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সাধারণ মানুষ হাতের মুঠোয় সব ধরনের ব্যাংকিং সমাধান পাবে।”
















