জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগে মিয়ানমারের তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আইসিজেতে মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে তুলে ধরে তাদের অবৈধ অভিবাসী ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই উপস্থাপনার মাধ্যমে মিয়ানমার ২০১৬ ও ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো সহিংসতা ও নিপীড়নকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং প্রকৃত অপরাধ আড়াল করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের বর্ণনা রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয় এবং ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও স্থায়ী সমাধানের আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে দুর্বল করে। রোহিঙ্গাদের নিজেদের পরিচয় নির্ধারণের অধিকার অস্বীকার করা মূলত তাদের রাখাইন থেকে উচ্ছেদ করে রাষ্ট্রহীন করার প্রচেষ্টার অংশ।
চলতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রকাশ্য শুনানি আবার শুরু হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মিয়ানমার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে।
বাংলাদেশ মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, রোহিঙ্গাদের দেশটির সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিকতা দেখাতে হবে।
২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া জাতিসংঘের গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তি সংক্রান্ত কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে। চলতি জানুয়ারির ১৫ তারিখ আদালতে গাম্বিয়ার আইনজীবীরা জানান, মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়িয়েছেন এবং সহিংসতায় উসকানি দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত জানায়, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে জানুয়ারি মাসের ২৯ তারিখ পর্যন্ত শুনানি চলবে।
দীর্ঘদিন ধরেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুরা নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। ২০১৭ সালের পর থেকে সহিংসতার মুখে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
















