সীমান্তের ফাঁক গলে ঢুকছে বিদেশি পিস্তল; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় ৭৮৭ জন লাইনম্যান
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অবৈধ অস্ত্র কারবারিদের তৎপরতা ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। প্রায় প্রতিদিনই সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকছে আগ্নেয়াস্ত্র, যার বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি নাইন এমএম পিস্তল। এই অস্ত্রগুলো নির্বাচনের সময় নাশকতায় ব্যবহারের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক প্রার্থীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩০ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৪০ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় চোরাকারবারিরা সেই সুযোগ নিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ইতিমধ্যে সীমান্তবর্তী ২৭ জেলায় ৭৮৭ জন অস্ত্র কারবারির (লাইনম্যান) তালিকা তৈরি করে নজরদারি শুরু করেছে। এর মধ্যে শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জেরই ৩৮ জন এবং রাজশাহীর ৩ জন রয়েছেন।
অস্ত্র চোরাচালানের বর্তমান পরিস্থিতি:
- প্রধান রুট: রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র আসছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে। এছাড়া রাজশাহীর গোদাগাড়ী, পবা, বাঘা ও চারঘাট সীমান্তও ব্যবহৃত হচ্ছে।
- সাম্প্রতিক উদ্ধার: গত ২৬ অক্টোবর ঢাকাগামী ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ থেকে ৮টি বিদেশি পিস্তল ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। এছাড়া শিবগঞ্জ ও বাঘা সীমান্ত থেকে নিয়মিত ওয়ান শুটারগান ও ম্যাগাজিন জব্দ করছে বিজিবি ও র্যাব।
- বিজিবির তৎপরতা: গত ৬ মাসে শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকেই ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪১টি গুলি ও সাড়ে ৯ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
আতঙ্ক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
নির্বাচনের আগে এই অস্ত্র সরবরাহ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, “থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র যেমন উদ্ধার হয়নি, তেমনি সীমান্ত দিয়ে নতুন অস্ত্র আসছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ভোট দিতে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।”
“অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় আমরা বিশেষভাবে কাজ করছি। ইতিমধ্যে বেশ কিছু বড় অভিযান চালানো হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।” — মোহাম্মদ শাহজাহান, ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ।
বিজিবি জানিয়েছে, পদ্মা নদীতে স্পিডবোটের মাধ্যমে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ভোট উপলক্ষে রাজশাহী অঞ্চলে সাত শতাধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্বীকার করেছেন যে, বেশ কিছু অস্ত্র এখনো উদ্ধার হওয়া বাকি, যা উদ্ধারে প্রশাসন প্রতিদিন কাজ করছে।
















