সাড়ে তিন বছরে আয় ৩ হাজার কোটি, তবে বড় যানবাহনের অভাব ও থমকে থাকা শিল্পায়ন নিয়ে উদ্বেগ
পদ্মা সেতু চালুর পর প্রায় সাড়ে তিন বছরে ৩ হাজার কোটি টাকা টোল আদায় করেছে সরকার। তবে এই বিশাল বিনিয়োগ তুলে আনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যানবাহনের প্রকৃতি এবং শিল্পায়নের ধীরগতি। পূর্বাভাস অনুযায়ী যানবাহন চললেও, বড় মালবাহী ট্রাক ও বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না।
পদ্মা সেতুর নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে সেতু দিয়ে দৈনিক গড়ে ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করছে, যা পূর্বাভাসের (২৩,৯৫৪টি) কাছাকাছি। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এর এক-তৃতীয়াংশই মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি। অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বেনাপোল বা মোংলা বন্দর হয়ে পণ্য পরিবহনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো বাস্তব রূপ নেয়নি।
আয়ের পরিসংখ্যান ও পূর্বাভাস:
- বর্তমান চিত্র: প্রতিদিন গড়ে টোল আদায় হচ্ছে প্রায় ২.৫ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর মাসে মোট আয় হয়েছে ৮২ কোটি টাকা।
- পূর্বাভাস বনাম বাস্তব: ২০২২ সালে বছরে ১,৩২৩ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বর্তমানে বছরে আয় হচ্ছে ১,০০০ কোটি টাকারও কম।
- আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা: ২০২৯ সালে বার্ষিক আয় ১,৮০৪ কোটি এবং ২০৫০ সালে ৩,৩৭৯ কোটি টাকায় পৌঁছানোর লক্ষ্য ধরা হয়েছিল।
আয়-ব্যয় ও ঋণের বোঝা:
সরকার নিজস্ব অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করলেও এটি সেতু বিভাগকে ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ৩৫ বছরে ১ শতাংশ হারে সুদসহ ১৪০টি কিস্তিতে এই ঋণের টাকা অর্থ মন্ত্রণালয়কে ফেরত দিতে হবে।
- পরিশোধিত অর্থ: এ পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়কে ২,২০৫ কোটি টাকা কিস্তি পরিশোধ করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
- রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়: টোল আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে ৪১৪ কোটি টাকা।
- ভ্যাট: সরকার আয় থেকে ভ্যাট বাবদ পেয়েছে ৩৮৪ কোটি টাকা।
সব মিলিয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আয়ের বিপরীতে ২,৯৩৩ কোটি টাকাই খরচ হয়ে গেছে। অর্থাৎ, কিস্তি পরিশোধের পর হাতে উদ্বৃত্ত টাকা থাকছে না বললেই চলে।
“সেতুটি নির্মাণে খরচ বেশি হয়ে গেছে। এরপরও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঋণের কিস্তি চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়ন না হলে পূর্বাভাস অনুযায়ী আয় বাড়বে না।” — মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, উপদেষ্টা, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
উপদেষ্টা আরও জানান, বিগত সরকারের আমলে নিযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকাদারের ব্যয় নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় টোল আদায়ের মাধ্যমে খরচ সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
















