ক্ষমতায় গেলে মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করবে বিএনপি
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, পরাজিত শক্তি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। দেশের ভেতরেও একটি চক্র নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জনগণ যেভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেছে, ভবিষ্যতেও সেভাবেই রুখে দাঁড়াবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা উপলক্ষে সিলেট নগরের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণআন্দোলনে সিলেট শহরেই ১৪ জন মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। “ইলিয়াস আলী, দিনার ও জুনায়েদসহ সিলেটের অনেক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তারা নিজেদের জীবন দিয়ে আমাদের মুক্ত করেছেন,”—বলেন তিনি। তারেক রহমান অভিযোগ করেন, দিল্লি পালিয়ে যাওয়া পরাজিত শক্তি এখনো দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।
ক্ষমতায় গেলে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “মানুষ যেন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়—ক্ষমতায় গেলে বিএনপি তা বাস্তবায়ন করবে।” শুধু ভোটাধিকার নয়, দেশের মানুষকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলাই বিএনপির লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর শাসনামলে মানুষকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল, নারীদের শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। “ক্ষমতায় গেলে আমরা সেই ধারাই ফিরিয়ে আনব,”—বলেন তিনি।
উন্নয়নের নামে লুটপাটের অভিযোগ
বিগত ১৫ বছরে তথাকথিত উন্নয়নের নামে বিপুল অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে—এমন অভিযোগ করে তারেক রহমান বলেন, “রাতের ভোট, ভোট চুরি আর মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার রাজনীতি আমরা দেখেছি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সেই চোরেরা পালিয়েছে।”
তিনি বলেন, “দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ। বিএনপির স্লোগান ‘টেইক ব্যাক বাংলাদেশ’। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করলেই এই লক্ষ্য পূরণ হবে।”
কৃষক, নারী ও তরুণদের জন্য পরিকল্পনা
ক্ষমতায় গেলে কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করে নদীতে পানি আনা হবে। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এতে পরিবারগুলো সরাসরি সহায়তা পাবে।
তরুণদের কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিলেটের বহু মানুষ বিদেশে যান। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা দেশে ও বিদেশে সম্মানজনক কর্মসংস্থান পায়।
নেতাদের বক্তব্য
জনসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তারেক রহমান আমাদের প্রেরণা জুগিয়েছেন।”
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির বলেন, “তারেক রহমান মানেই সিলেট বিভাগের উন্নয়ন।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির উপদেষ্টা এম এ মালিক, ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং তাহসিনা রুশদীর লুনা প্রমুখ।
শেষে তারেক রহমান সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আসনের বিএনপি ও জোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।















