অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা আরও ১৮টি বসতিতে বসবাসকারী ইসরায়েলিদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী সরকার অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের যে নীতি অনুসরণ করছে, এই সিদ্ধান্ত তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বেন গাভির জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট বসতিগুলো এখন ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে। তার দাবি, এতে আত্মরক্ষা জোরদার হবে এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়বে।
সমালোচকদের মতে, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের শুরু থেকেই বেন গাভিরের নেতৃত্বে ব্যাপক অস্ত্রায়ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যা পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ইসরায়েলি বসতিদের আরও সাহসী করে তুলেছে। এসব হামলার ক্ষেত্রে প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগ করায় সহিংসতা বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধভাবে বসবাসকারী ইসরায়েলিরা এখন সামরিক মানের অস্ত্র পাচ্ছেন। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, পিস্তল এমনকি নজরদারি ড্রোনও রয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য এসব অস্ত্র প্রয়োজন। তবে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, সংগঠিতভাবে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উৎখাত করতেই এই অস্ত্রায়ন ব্যবহৃত হচ্ছে।
গত বছর ইসরায়েল সরকার ই১ নামের একটি বড় অবৈধ বসতি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয়। চলতি বছরে জেরুজালেমের আশপাশ, জর্ডান উপত্যকা এবং রামাল্লাহ জুড়ে বসতি সম্প্রসারণ আরও জোরদার করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
ডিসেম্বরে সরকারের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা আরও ১৯টি বসতি পুনরায় বৈধ ঘোষণা করা হয়। সব মিলিয়ে ২০২২ সালের পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি ও বসতি ফাঁড়ির সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ১৪১ থেকে ২১০টিতে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ২০২৪ সালে রায় দিয়ে জানিয়েছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং যত দ্রুত সম্ভব এর অবসান ঘটানো উচিত।
বেন গাভির আরও দাবি করেন, নীতিমালা শিথিল হওয়ার পর থেকে দুই লাখ চল্লিশ হাজারের বেশি ইসরায়েলি অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন। আগে যেখানে বছরে গড়ে আট হাজার লাইসেন্স দেওয়া হতো, সেখানে এই সংখ্যা নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, এতে হামলা প্রতিরোধ, অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীদের থামানো সম্ভব হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতিদের এক হাজার আটশর বেশি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা দিনে গড়ে পাঁচটির মতো। এসব হামলায় প্রায় ২৮০টি এলাকায় হতাহতের ঘটনা ও সম্পত্তি ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় তিন শতাধিক বেশি।
একই বছরে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতিদের হামলায় অন্তত ২৪০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৫ জন শিশু।
















