বয়লারের ত্রুটি কাটিয়ে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ; ৫২৫ মেগাওয়াটের মধ্যে সচল মাত্র এক-দশমাংশ
টানা কয়েক দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আংশিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এই ইউনিটটি থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। গত রোববার বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ার পর এই ইউনিটের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
২২ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি ইউনিট মিলিয়ে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রটি এখন মাত্র ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে। যান্ত্রিক ত্রুটি এবং সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা সংকটের মুখে রয়েছে।

ইউনিটভিত্তিক বর্তমান উৎপাদন পরিস্থিতি:
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের বর্তমান অবস্থা নিচে তুলে ধরা হলো:
- প্রথম ইউনিট (১২৫ মেগাওয়াট): বয়লারের টিউব মেরামতের পর আজ সকাল থেকে আংশিক সচল হয়েছে। বর্তমানে সক্ষমতার অর্ধেক অর্থাৎ ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
- দ্বিতীয় ইউনিট (১২৫ মেগাওয়াট): গত বছরের নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি সম্পূর্ণ বন্ধ। এটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থের বরাদ্দ নিয়ে মন্ত্রণালয় এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
- তৃতীয় ইউনিট (২৭৫ মেগাওয়াট): ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে দীর্ঘ মেয়াদে বন্ধ রয়েছে। তবে আশার কথা হলো, আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই ইউনিটটি পুনরায় চালু হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ আভাস দিয়েছে।
এক নজরে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবস্থা:
| ইউনিট নং | সক্ষমতা | বর্তমান অবস্থা | চালুর সম্ভাবনা |
| ১ম ইউনিট | ১২৫ মেগাওয়াট | আংশিক সচল (৬০ মেগাওয়াট) | সচল আছে। |
| ২য় ইউনিট | ১২৫ মেগাওয়াট | যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ। | অনিশ্চিত (অর্থের অভাব)। |
| ৩য় ইউনিট | ২৭৫ মেগাওয়াট | ওভারহোলিং বা সংস্কারে বন্ধ। | ফেব্রুয়ারি ২০২৬। |
| মোট সক্ষমতা | ৫২৫ মেগাওয়াট | প্রকৃত উৎপাদন: ৬০ মেগাওয়াট | – |
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটের ত্রুটি সাময়িকভাবে সারিয়ে তোলা হয়েছে। এটি পুরোপুরি সচল করার প্রচেষ্টা চলছে। তবে উত্তরাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২৭৫ মেগাওয়াটের বড় ইউনিটটি সচল হওয়া জরুরি। ফেব্রুয়ারিতে তৃতীয় ইউনিট চালু হলে লোডশেডিং পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
















