মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনেও মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, ভোট বিভক্ত হওয়ার শঙ্কা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলীয় মনোনয়নকে অমান্য করে অর্ধশতাধিক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচনে থাকা।
দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর দেশের অন্তত অর্ধশতাধিক সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনেও এসব প্রার্থী সরে না দাঁড়ানোয় দলীয় ঐক্য ও ভোটের হিসাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় বহু ত্যাগী নেতা মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাদের অনেকেই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জনপ্রিয় হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে বিএনপির ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও কৌশলগত কারণে সবাইকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি। যদিও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারে চেষ্টা চালানো হয়েছিল, তবে অনেকেই দলীয় সিদ্ধান্ত মানেননি।
দলীয়ভাবে জানানো হয়েছে, যারা সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন নেতাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যদিও সব ক্ষেত্রে এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, বরিশাল, ঝালকাঠি, নওগাঁ, চাঁদপুর, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, নীলফামারী, কুমিল্লা, রাজবাড়ী, হবিগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, পিরোজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, শেরপুর, টাঙ্গাইল, পাবনা, মুন্সীগঞ্জ, জামালপুর, সাতক্ষীরা ও নারায়ণগঞ্জসহ বহু আসনে বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
দলীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন, এসব বিদ্রোহী প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকলে অনেক আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলটির কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করে তুলতে পারে।
















