ছয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি, প্রকৃত নাম সবুজ শেখ
ভবঘুরে নারীদের টার্গেট করে পরিকল্পিত হত্যার ভয়ংকর বর্ণনা
সাভারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলোচিত ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার আসল নাম সবুজ শেখ। ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতে দেওয়া সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া সবুজ শেখ দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন ভিন্ন নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে নিজ পরিচয় গোপন করতেন। কখনো নিজেকে ‘কিং সম্রাট’, আবার কখনো ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ পরিচয়ে উপস্থাপন করতেন। বাস্তবে তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামের বাসিন্দা।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রলোভন দেখিয়ে ভবঘুরে নারীদের পরিত্যক্ত ভবন বা নির্জন স্থানে নিয়ে যেতেন তিনি। পরে সন্দেহ, ঈর্ষা কিংবা অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তাদের হত্যা করতেন। সর্বশেষ ঘটনায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে এক নারী ও এক পুরুষকে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলার তথ্যও উঠে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সবুজ শেখ। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সাভার মডেল থানা পুলিশ জানায়, গত কয়েক বছর ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি থানা এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন এবং সেখানেই রাত কাটাতেন। স্থানীয় অনেকেই তাকে ভবঘুরে হিসেবেই চিনতেন।
পুলিশের তদন্তে আরও জানা যায়, গত সাত মাসে সাভার এলাকায় উদ্ধার হওয়া ছয়টি অজ্ঞাতনামা মরদেহের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। সর্বশেষ জোড়া পোড়া লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্তের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে। তার দাবি করা খুনের কারণ ও ঘটনার বর্ণনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব দিক যাচাই শেষে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।
















