২২ জানুয়ারি থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে মাঠে নামছে ডিএমপি, নজরদারিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটকেন্দ্র নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থান পুলিশের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের প্রচার শুরুর দিন থেকেই রাজধানীতে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোরালো অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পুলিশের তৎপরতা তদারক করবেন।
ডিএমপি সূত্র জানায়, গত ১২ জানুয়ারি সংস্থাটির সদর দপ্তরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সভাপতিত্বে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সভায় সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, অপরাধ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। বিশেষ করে প্রচার-প্রচারণা শুরুর দিন থেকেই নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।
ডিএমপির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে রাজধানীর ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট ও গোয়েন্দা শাখাকে সক্রিয়ভাবে মাঠে নামানো হবে। সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিত অভিযান চলবে।
ডিএমপি সূত্রে আরও জানা গেছে, রাজধানীর ভোটকেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ঢাকায় মোট ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৮২৮টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ৩০৩টি।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ সদস্যরা। পাশাপাশি কেন্দ্রপ্রতি ১০ জন করে আনসার সদস্য এবং একজন সহকারী সেকশন কমান্ডার অস্ত্রসহ নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় থাকবেন একজন সশস্ত্র আনসার সদস্য।
ডিএমপি জানিয়েছে, ভোটের আগেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কেন্দ্রগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে সেই প্রতিবেদন ডিএমপি কমিশনারের কাছে জমা দিতে হবে।
এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, অপারেশন ডেভিল হান্টের দ্বিতীয় ধাপের আওতায় রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার শুরুর দিন থেকে এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
















