নীতি সহায়তা না পেলে শিল্পের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলে সতর্ক করলেন উদ্যোক্তারা
দেশের তৈরি পোশাক খাত গত এক বছর ধরে কার্যত ‘আইসিইউতে’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পোশাক শিল্প–উদ্যোক্তারা। তাদের ভাষ্য, যথাযথ নীতি সহায়তা না পেলে এই খাতকে সংকট থেকে বের করা সম্ভব নয়।
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন–এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মোহাম্মদ হাতেম।
তিনি বলেন, টেক্সটাইল মিল মালিকরা যেমন আইসিইউতে থাকার কথা বলছেন, তেমনি দেশের গার্মেন্টস শিল্পও গত এক বছর ধরে একই অবস্থায় রয়েছে। এই খাতকে আইসিইউ থেকে বের করে আনার দায়িত্ব সরকারের, কিন্তু সেই জায়গায় কী ধরনের নীতি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে—সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সদ্য প্রণীত শ্রম আইনই যথেষ্ট দেশের পোশাক শিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য। তার মতে, এই আইন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই শিল্প ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ‘সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত পোশাক শিল্পের জন্য হুমকি’ শীর্ষক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেলিম রহমান। তিনি বলেন, ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ পোশাক শিল্পের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
মোহাম্মদ হাতেম জানান, এই সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো পিআই ইস্যু বন্ধ করে দিয়েছে এবং একই সঙ্গে সুতার দামও বাড়িয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিকভাবে স্পিনিং মিল স্থাপনে কত বিনিয়োগ লাগে এবং উৎপাদন ব্যয় কেন বেশি—তা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
ক্রেতারা ন্যায্য মূল্য না দেওয়ায় প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্র্যান্ড বায়াররা নৈতিকতার কথা বললেও বাস্তবে অনৈতিকভাবে কম দাম দিয়ে বাংলাদেশের শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই ‘এথিক্যাল প্রাইসিং’ ইস্যুতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ যৌথভাবে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেছে, সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ ও বন্ডেড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে। অন্যথায় শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে তারা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত World Trade Organization–এর সেফগার্ড চুক্তির ৩ ও ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, স্থানীয় শিল্পে গুরুতর ক্ষতির প্রমাণ ছাড়া এমন শুল্ক আরোপ করা যায় না।
সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি **রেজওয়ান সেলিম**সহ উভয় সংগঠনের পরিচালক ও নেতারা উপস্থিত ছিলেন।















