স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আদামুজে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত ও প্রায় ১০০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পাশের ট্র্যাকে পড়ে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি ট্রেন সেটিকে ধাক্কা দেয়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় একশ জন যাত্রী, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় ঘটা এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার সন্ধ্যায় মালাগা থেকে রাজধানী মাদ্রিদের দিকে যাচ্ছিল একটি দ্রুতগতির ট্রেন। ৫ শতাধিক যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরুর মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আদামুজের (Adamuz) কাছাকাছি ট্রেনটি হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়। লাইনচ্যুত বগিগুলো ছিটকে পাশের ট্র্যাকে গিয়ে পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি দ্রুতগতির ট্রেন বিচ্যুত বগিগুলোকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দ্বিতীয় ট্রেনটিও লাইনচ্যুত হয় এবং দুটি ট্রেনেরই বেশ কয়েকটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জরুরি বিভাগের উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে সামরিক বাহিনীর বিশেষ ইউনিটও। স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী ওসকার পুয়েন্তে জানিয়েছেন, অন্তত ৩০ জন যাত্রী বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তিনি এই দুর্ঘটনাকে ‘অত্যন্ত অদ্ভুত’ হিসেবে অভিহিত করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদামুজ শহরের মেয়র রাফায়েল মোরেনো দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একে একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে গভীর শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “স্পেন আজ এক গভীর বেদনার রাত অতিক্রম করছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা।” দুর্ঘটনার পরপরই মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে ট্রেন চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ট্রেনটিতে ৩০০ এবং দ্বিতীয়টিতে ২০০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে স্পেনের জাতীয় রেলওয়ে বিভাগ (Renfe) একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
















