সুদানে চলমান যুদ্ধ দেশটির জনগণকে ভয়াবহ দুর্ভোগ ও নরকসম অবস্থার মধ্যে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক। খাদ্য সংকট, রোগবালাই ও বাস্তুচ্যুতির কারণে সাধারণ মানুষ চরম বিপদের মুখে পড়েছে বলে তিনি জানান।
২০২৩ সালের এপ্রিলে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম সুদান সফরে গিয়ে টুর্ক বলেন, জনগণের কষ্ট লাঘবে ব্যয় হওয়ার কথা যেসব অর্থের, সেগুলো উন্নত অস্ত্র ও ড্রোন কেনায় ব্যবহার হওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়।
তিনি লোহিত সাগর উপকূলীয় শহর পোর্ট সুদান থেকে বলেন, সংঘাতে জড়িত সব পক্ষ সমাজকে ক্রমেই সামরিকীকরণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে বেসামরিক মানুষকে অস্ত্র দেওয়া এবং শিশুদের নিয়োগ ও ব্যবহারের মতো বিপজ্জনক প্রবণতা।
২০২৩ সালে ক্ষমতার দখলকে কেন্দ্র করে সুদানি সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা দেশটিকে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে ঠেলে দেয়।
জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরেই সুদানের যুদ্ধে বিদেশি শক্তির জড়িত থাকার বিষয়ে সতর্ক করে আসছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে আরএসএফকে অস্ত্র ও রাজনৈতিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যদিও আবুধাবি তা অস্বীকার করে। অন্যদিকে সুদানি সেনাবাহিনী মিসর ও সৌদি আরবের সমর্থন পাচ্ছে এবং ইরান ও তুরস্ক থেকেও অস্ত্র ও ড্রোন সহায়তা পেয়েছে বলে জানা গেছে।
টুর্ক জানান, দারফুরে হামলার শিকার ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনি অসহনীয় নৃশংসতার বর্ণনা শুনেছেন। একই ধরনের অপরাধ বর্তমান সংঘাতকেন্দ্র কর্ডোফান এলাকাতেও ঘটছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, এসব ঘটনার দায় শুধু যোদ্ধাদের নয়, যারা অস্ত্র দিচ্ছে, অর্থ জোগাচ্ছে এবং যুদ্ধ থেকে লাভ করছে, তাদের সবার কাছেই এই সাক্ষ্য পৌঁছানো দরকার। অপরাধীদের পরিচয় যাই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
বেসামরিক স্থাপনায় বারবার হামলাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ উল্লেখ করে তিনি বাজার, হাসপাতাল, স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রে আক্রমণ বন্ধের আহ্বান জানান।
সংঘাতের দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে আরএসএফের বিরুদ্ধে দারফুরের এল ফাশের দখলের সময় অন্তত দেড় হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ করেছে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সুদানের প্রায় ৪ কোটি ৬৮ লাখ মানুষের মধ্যে ৩ কোটি ৪ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। দারফুর ও কর্ডোফানে খাদ্য ও পুষ্টি সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং রোগের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
একই সঙ্গে সুদান এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি সংকটের মুখে রয়েছে। চলমান সহিংসতায় প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
















