পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিরোধী দলগুলো একটি আসনও পায়নি। দেশটির নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস তালনের সঙ্গে যুক্ত দুটি দল জাতীয় পরিষদের সব ১০৯টি আসনে জয় পেয়েছে।
শনিবার রাতে প্রকাশিত ফলাফলে জানানো হয়, জানুয়ারির ১১ তারিখের ভোটে অংশ নেওয়া পাঁচটি দলের মধ্যে কেবল প্রগ্রেসিভ ইউনিয়ন ফর রিনিউয়াল এবং রিপাবলিকান ব্লক সংসদে প্রতিনিধিত্ব অর্জন করেছে। এই দুই দলই প্রেসিডেন্ট তালনের রাজনৈতিক জোটের অংশ।
প্রগ্রেসিভ ইউনিয়ন ফর রিনিউয়াল পেয়েছে ৬০টি আসন এবং রিপাবলিকান ব্লক পেয়েছে ৪৯টি আসন।
নতুন নির্বাচনী আইনে বলা হয়েছে, কোনো দলকে সংসদে আসন পেতে হলে জাতীয়ভাবে অন্তত ২০ শতাংশ ভোট এবং দেশের ২৪টি নির্বাচনী অঞ্চলের প্রতিটিতে কমপক্ষে ২০ শতাংশ ভোট অর্জন করতে হবে।
প্রধান বিরোধী দল দ্য ডেমোক্র্যাটস প্রায় ১৬ শতাংশ ভোট পেলেও এই সীমা অতিক্রম করতে না পারায় তারা কোনো আসন পায়নি।
এই ফলাফল এপ্রিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন শিবিরকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেল। ৬৭ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস তালন টানা এক দশক ক্ষমতায় থাকার পর মেয়াদসীমার কারণে আবার প্রার্থী হতে পারবেন না।
তার মনোনীত উত্তরসূরি হিসেবে অর্থমন্ত্রী রোমুয়ালদ ওয়াদাগনির নাম সামনে আসছে। অন্যদিকে দ্য ডেমোক্র্যাটস প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও অংশ নিতে পারছে না। একই নিয়মের কারণে তারা স্থানীয় নির্বাচন থেকেও বাদ পড়েছে।
দলটির মুখপাত্র গি মিতোকপে বলেন, গত দুই বছর ধরে তারা এই নির্বাচনী আইনের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছেন। তার মতে, আইনটি প্রেসিডেন্টপন্থী দলগুলোর পক্ষে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি বিরোধীদের জন্য বর্জনমূলক। তিনি বলেন, এর প্রমাণ হলো তারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও পৌর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২৩ সালের সংসদ নির্বাচনের প্রায় সমান।
এই ভোট হয় ডিসেম্বরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট তালনের বিরুদ্ধে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টার কয়েক সপ্তাহ পর। ওই অভ্যুত্থান কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।
গত নভেম্বরের সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে বেনিনে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ সাত বছর করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
















