মিনেসোটা – যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় মোতায়েন করা অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডে কড়াকড়ি আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী ও পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে হয়রানি, আটক কিংবা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বন্ধে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মিনেসোটায় উত্তেজনা বাড়ে চলতি মাসের শুরুতে, যখন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের এক কর্মকর্তা গাড়িতে থাকা অবস্থায় তিন সন্তানের জননী ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুডকে গুলি করে হত্যা করেন। গুড স্থানীয় কর্মীদের গঠিত একটি নজরদারি দলে ছিলেন, যারা আইসের অভিযান পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক কেট মেনেনডেজ আদেশ দেন, শান্তিপূর্ণ ও বাধাহীন বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। আদালত স্পষ্ট করে বলেন, কেউ অপরাধ করেছে বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দিচ্ছে এমন যুক্তিসংগত সন্দেহ না থাকলে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী বা পর্যবেক্ষকদের আটক বা গ্রেপ্তার করা যাবে না।
রায়ে আরও বলা হয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী কিংবা অভিযান পর্যবেক্ষণ ও ভিডিও ধারণকারী সাধারণ মানুষের ওপর পিপার স্প্রে, টিয়ার গ্যাস কিংবা অন্য কোনো ভিড় নিয়ন্ত্রণকারী অস্ত্র ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মিনিয়াপোলিসে তাদের কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে বলা হয়েছে।
এই আদেশ মিনিয়াপোলিসের আন্দোলনকারীদের জন্য বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন দুই সপ্তাহ আগে সেখানে দুই হাজার অভিবাসন কর্মকর্তা মোতায়েনের ঘোষণা দেয়। পরে সেই সংখ্যা প্রায় তিন হাজারে পৌঁছে, যা স্থানীয় পুলিশের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ একে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধরনের অভিযান বলে দাবি করেছে।
অভিযানের বিরুদ্ধে মিনিয়াপোলিসজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনিবন্ধিত অভিবাসীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নামে এবং অনেক জায়গায় আইস কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও ওঠে।
ফেডারেল সরকার ও স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইনসারেকশন অ্যাক্ট প্রয়োগের হুমকি দেন। এই আইনের মাধ্যমে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা যায়।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আমি এটি ব্যবহার করব। তবে এই মুহূর্তে তা করার মতো কোনো কারণ দেখছি না।
ইনসারেকশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট চাইলে গৃহস্থালি সহিংসতা বা সশস্ত্র বিদ্রোহ দমনে সেনা মোতায়েন করতে পারেন, যা সাধারণভাবে বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া পসী কমিটাটাস আইনের ব্যতিক্রম তৈরি করে।















