টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চলের তীব্র শীতের প্রকোপ থেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে সুরক্ষা দিতে মানবিক হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে মধুপুর বিএডিসি ক্যাম্প প্রাঙ্গণে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের পক্ষ থেকে দুই শতাধিক পরিবারের মাঝে কম্বলসহ বিভিন্ন শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। সেনাবাহিনীর এই বিশেষ উদ্যোগে হাসি ফুটেছে পাহাড়ি জনপদের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে।
সেনাবাহিনীর জনসেবামূলক কার্যক্রম
সেনাবাহিনী প্রধানের বিশেষ নির্দেশনায় ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার ও ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। তিনি জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও শীতের তীব্রতা মোকাবিলায় আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছে ১৯ পদাতিক ডিভিশন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সুবিধাভোগীদের প্রতিক্রিয়া ও আনন্দ
মধুপুরের গাছাবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং জলছত্র গ্রামসহ আশপাশের এলাকা থেকে আসা নারী-পুরুষরা সেনাবাহিনীর এই সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
- রাবেয়া (৪০): “কয়েক দিন ধরে এলাকায় প্রচণ্ড শীত। এই সময়ে কম্বল পেয়ে খুব উপকার হলো।”
- সুমতি দাস (৬০): “ভাবতেই পারিনি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কম্বল পাব। প্যাকেজ উপহার পেয়ে আমি অনেক আনন্দিত।”
- আজাহার আলী (৬০): “বৃদ্ধ বয়সে এই হাড়কাঁপানো শীতে সেনাবাহিনীর সহায়তা পেয়ে আমি অনেক খুশি।”
উপস্থিত সামরিক ও স্থানীয় প্রতিনিধি
শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর দপ্তর ৩০৯ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমাদ উদ্দিন আহমেদ, এসপিপি, পিএসসি এবং ঘাটাইল অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ। স্থানীয় অরণখোলা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল হোসেন জানান, দুর্গম পাহাড়িয়া গ্রামের দরিদ্র মানুষদের জন্য এই সহায়তা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং মানবিক।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল মধুপুর নয়, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন অন্যান্য এলাকায়ও পর্যায়ক্রমে এ ধরনের জনহিতকর কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।
















