ঘরে শোভা বাড়াতে টবের গাছ কিনে আনলেও কিছুদিন পরই তা মরে যাচ্ছে—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে কোনো অভিশাপ বা বিশেষ দক্ষতার ঘাটতি নেই। গাছের ধরন ও যত্নে সামান্য ভুল হলেই এই সমস্যা দেখা দেয়।
গার্ডেনার্স ওয়ার্ল্ড অনুষ্ঠানের উপস্থাপক অ্যাডাম ফ্রস্ট এবং রয়্যাল হর্টিকালচারাল সোসাইটির উদ্যান বিশেষজ্ঞ ক্লেয়ার প্রেস্টন-পোলিট ঘরের গাছ সুস্থ রাখার কয়েকটি কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাছ কেনার সময় শুধু সৌন্দর্য নয়, ঘরের পরিবেশের সঙ্গে তার মানানসই হওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় গাছ ভুল জায়গায় রাখার কারণেই ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই প্রয়োজনে গাছের স্থান পরিবর্তন করে দেখা যেতে পারে।
ক্লেয়ার জানান, আলো-বাতাসযুক্ত ঘরের জন্য মনস্টেরা ভালো, উষ্ণ ও আর্দ্র রান্নাঘরে পিস লিলি উপযোগী। বাথরুমের মতো স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ডেভিলস আইভি ভালো থাকে। কম আলো পাওয়া করিডর বা ঘরের জন্য ফলস ক্যাস্টর অয়েল প্ল্যান্ট উপযুক্ত।
অতিরিক্ত পানি দেওয়া ঘরের গাছ নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ। সব গাছের পানির চাহিদা এক নয়। মাটির আর্দ্রতা পরীক্ষা না করে নিয়ম করে পানি দিলে সমস্যা বাড়ে। পিস লিলি বা স্পাইডার প্ল্যান্টের পাতায় বাদামি দাগ দেখা দিলে তা অতিরিক্ত বা কম পানির ইঙ্গিত হতে পারে।
ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট জাতীয় গাছ খুব কম পানিতেই ভালো থাকে। এ ধরনের গাছে শুধু হালকা স্প্রে করলেই যথেষ্ট। ধীরে ধীরে পানি সরবরাহের জন্য ওয়াটার ম্যাট বা ওয়াটারিং গ্লোব ব্যবহার করার পরামর্শও দিয়েছেন ক্লেয়ার।
কাস্ট আয়রন প্ল্যান্ট, হোয়া কারনোসা ও স্নেক প্ল্যান্ট তুলনামূলকভাবে শক্তপোক্ত। দীর্ঘদিন পানি না পেলেও এরা টিকে থাকতে পারে এবং কম আলোতেও মানিয়ে নেয়।
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে গাছের যত্নেও পরিবর্তন আনতে হয়। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে গাছ দ্রুত বাড়ে, তাই তখন নিয়মিত পানি ও সার প্রয়োজন। গ্রীষ্মের সময় কিছু গাছে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবারও পানি দিতে হতে পারে।
তবে শরৎ ও শীতে গাছের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায়। এ সময় গাছ প্রায় নিস্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, ফলে পানি ও সার কম দিতে হয়। মাটি পুরো শুকিয়ে গেলে তবেই পানি দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
গাছ সুস্থ রাখতে সময়মতো টব পরিবর্তন করাও জরুরি। বসন্তকালই এর জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। টবের নিচে শিকড় জট পাকানো বা ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে এলে বুঝতে হবে বড় টব দরকার।
অনেকের ঘরে শীতকালে উপহার হিসেবে পয়েন্টসেটিয়া আসে। কিন্তু জানুয়ারির মধ্যেই এর পাতা কুঁচকে যায়। অ্যাডাম ফ্রস্ট বলেন, এই গাছ উষ্ণ পরিবেশ পছন্দ করে। ঠান্ডা বাতাস বা ঝরঝরে জায়গায় রাখা উচিত নয় এবং সরাসরি রোদেও নয়।
পয়েন্টসেটিয়ায় খুব বেশি পানি লাগে না। মাটি শুকনো হলে তবেই পানি দিতে হবে। চাইলে টব কিছুক্ষণ পানিভর্তি পাত্রে রেখে আবার আগের জায়গায় রাখা যেতে পারে বা হালকা স্প্রে করা যায়।
গাছ দীর্ঘদিন ভালো রাখতে মাসে একবার সার দেওয়া উচিত। এপ্রিল মাসে ডাল ছাঁটাই করে মে মাসে টব বদলানোর পরামর্শ দেন অ্যাডাম। সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন অন্তত ১২ ঘণ্টা অন্ধকার জায়গায় রাখলে পরের বছর আবার লাল পাতা ফিরে আসবে।
















