দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। সাম্প্রতিক সীমান্ত এলাকায় ড্রোন সংক্রান্ত ঘটনার পর সিউলের পক্ষ থেকে যোগাযোগ বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া হলেও পিয়ংইয়ং সে সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির প্রভাবশালী নেতা কিম ইয়ো জং বলেন, গত সেপ্টেম্বর ও চলতি মাসে দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্ত পেরিয়ে ড্রোন পাঠিয়ে উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। এটিকে তিনি গুরুতর উসকানি হিসেবে বর্ণনা করেন। তার ভাষায়, সম্পর্ক মেরামত বা যোগাযোগ পুনরুদ্ধার নিয়ে সিউলের যেসব আশা রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, কিম ইয়ো জং বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে সম্পর্ক উন্নতির যে স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, তা কখনোই বাস্তবে রূপ নেবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই কোরিয়ার সম্পর্কের মৌলিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
ড্রোন ইস্যুতে উত্তেজনা শুরু হয় গত সপ্তাহে, যখন উত্তর কোরিয়া দাবি করে যে সীমান্ত এলাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার পাঠানো ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রকাশিত ছবিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত ড্রোনের অংশ দেখানো হয়। দক্ষিণ কোরিয়া এরপর তদন্ত শুরু করে জানায়, ছবিতে দেখানো ড্রোনগুলো তাদের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত মডেলের সঙ্গে মেলে না। এতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, এগুলো বেসামরিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ঘটনাটিকে কোরীয় উপদ্বীপের শান্তি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। উত্তরের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পিয়ংইয়ং সিউলের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করলেও এক পর্যায়ে জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর সরাসরি উসকানির ইচ্ছা ছিল না।
এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার পুনরেকত্রীকরণ মন্ত্রণালয় কিম ইয়ো জংয়ের বক্তব্যকে ভবিষ্যতে যোগাযোগের সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করে। তবে বুধবার সেই ব্যাখ্যা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে কিম ইয়ো জং বলেন, এই ধরনের আশা ভিত্তিহীন এবং ভুল।
তিনি আরও সমালোচনা করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাম্প্রতিক বৈঠকের। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে পূর্ব এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। কিম ইয়ো জং বলেন, বিদেশে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ালেও দুই কোরিয়ার সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা বদলাবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে যে ড্রোন ইস্যু ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে পিয়ংইয়ং এখনই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা সম্পর্ক উন্নয়নের পথে যেতে আগ্রহী নয়।
















