ইমাম সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর আহ্বান; আগামী ২০ বছর দেশ কীভাবে চলবে তা নির্ধারিত হবে এই গণভোটে।
ফ্যাসিবাদ যেন ভবিষ্যতে আর কখনও ফিরে আসতে না পারে, সেই জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জাতীয় সনদ ছাপা হয়েছে কালো কালি দিয়ে, কিন্তু এর প্রতিটি অক্ষর ১৪শ মানুষের রক্ত দিয়ে লেখা। রংপুরে ইমাম সম্মেলনে এসব কথা বলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আর কখনো যাতে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গণভোটের প্রচারণা ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে অধ্যাপক রীয়াজ ‘জুলাই সনদ’ এবং এর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “জাতীয় সনদ ছাপা হয়েছে কালো কালি দিয়ে, কিন্তু এর প্রতিটি অক্ষর লেখা হয়েছে ১৪শ শহীদের রক্ত দিয়ে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই সনদ কোনো সাধারণ কাগজ নয়; এটি হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের ফসল।” তিনি আরও যোগ করেন, “সাম্য ও ইনসাফভিত্তিক একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়াই এই গণভোটের লক্ষ্য। আগামী ৫, ১০ বা ২০ বছর দেশটা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা এই ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।”
দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আলেম-ওলামা এবং ইমামরাও ফ্যাসিবাদের নিপীড়ন থেকে রেহাই পাননি। বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা চিরতরে বন্ধ করতে ইমামদের সাধারণ মানুষকে সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি। অধ্যাপক রীয়াজ সম্মেলনে উপস্থিত রংপুর বিভাগের ৮ জেলার হাজার হাজার ইমামকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার অনুরোধ করেন।
অধ্যাপক রীয়াজ তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে যে দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর অর্পিত হয়েছে, তা পালন করতেই এই সংস্কার উদ্যোগ। স্বৈরাচারী ব্যবস্থার শিকড় উপড়ে ফেলতেই এই আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ধর্ম সচিব কামাল উদ্দিন, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সম্মেলনে বক্তারা সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
















