থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর নির্মাণাধীন স্থাপনা থেকে একটি ক্রেন ভেঙে পড়ে অন্তত ২২ জন নিহত এবং প্রায় ৮০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার সকালে নাখন রাতচাসিমা প্রদেশের সিখিও জেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্রেনটি রাজধানী ব্যাংকক থেকে উবন রাতচাথানি প্রদেশের উদ্দেশে যাচ্ছিল। ঘটনাস্থলটি ব্যাংকক থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে মোট ১৯৫ জন যাত্রী ছিলেন।
থাইল্যান্ডের পরিবহনমন্ত্রী ফিপাত রাচাকিতপ্রাকর্ন এক বিবৃতিতে জানান, ক্রেনের আঘাতে ট্রেনের তিনটি বগির মধ্যে দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নিহতদের বেশির ভাগই ওই বগিগুলোতেই ছিলেন। তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা কম বলা হলেও পরে পুলিশ ও উদ্ধারকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়ায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মিত্র ইনত্রপান্যা জানান, সকাল নয়টার দিকে ওপর থেকে ভারী কিছু পড়ার মতো শব্দ শোনা যায়, এরপর দুটি বিস্ফোরণের আওয়াজ হয়। পরে দেখা যায়, একটি বড় ধাতব ক্রেন ট্রেনের ওপর পড়ে একটি বগিকে মাঝখান থেকে ভেঙে দিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর অল্প সময়ের জন্য আগুন লাগলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে উদ্ধার ও আহতদের চিকিৎসার কাজ চলছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যে রেলপথে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেটি উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোকে সংযুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চীনা সহায়তাপ্রাপ্ত উচ্চগতির রেল প্রকল্পের কাজ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই প্রকল্পের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ক্রেনটি উঁচু কংক্রিটের স্তম্ভ থেকে ভেঙে পড়ে ট্রেনটির ওপর আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
















