বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ডাক ওলামাদের; সপ্তাহব্যাপী সংহতি কর্মসূচির ঘোষণা
ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী জনতা ও গাজার নিপীড়িত মানুষের প্রতি সংহতি জানাতে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক কুদস সপ্তাহ’। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর জামিয়া ইসলামিয়া লালমাটিয়া মাদ্রাসায় আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারের মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ফিলিস্তিন ওলামা পরিষদের আহ্বানে এবং ‘আন্তর্জাতিক কুদস সপ্তাহ বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য—আল-আকসা মসজিদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করা। আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কেবল একটি ভূ-রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং বিশ্ব মুসলিমের ইমানি দায়িত্ব।
সেমিনারে ইন্তিফাদা ফাউন্ডেশন ও হাফেজ্জী হুজুর সেবা ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আন্তর্জাতিক কুদস সপ্তাহ উপলক্ষে ওলামায়ে কেরামের জোরালো ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে একটি বিশেষ বার্তা পাঠ করা হয়।
কর্মসূচি ও বিশেষ বার্তা
বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য মাওলানা রাশেদ কাউসার সপ্তাহব্যাপী মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেমিনারে পঠিত বিশেষ বার্তায় উল্লেখ করা হয়:
- মুসলিম উম্মাহর ঐক্য: গাজার সংকটময় পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের মুসলমানদের ভেদাভেদ ভুলে এক হওয়ার সময় এসেছে।
- ওলামাদের ভূমিকা: ফিলিস্তিনের প্রকৃত ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আলেম সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
- ইমানি দায়িত্ব: আল-আকসার মুক্তিকে আঞ্চলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ না রেখে একে প্রতিটি মুসলমানের ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়।
ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান
সেমিনার থেকে বাংলাদেশে সক্রিয় বিভিন্ন ইসরায়েলপন্থী লবিং ও সাংস্কৃতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ফিলিস্তিনের সমর্থনে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ অত্যন্ত গভীর, তবে এই আবেগকে সাংগঠনিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে রূপান্তর করতে হবে।
উপস্থিত অতিথি ও মোনাজাত
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর, মুফতি শফি উল্লাহ, মুফতি শারাফাত শরীফ এবং সংবাদকর্মী মনজুরুল হক। সেমিনার শেষে ফিলিস্তিন, গাজা ও সারা বিশ্বের মজলুম মুসলমানদের মুক্তি এবং শান্তি কামনায় এক বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন জামিয়া ইসলামিয়া লালমাটিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মাদ ইসমাঈল।
আগামী এক সপ্তাহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মসজিদ ও মাদ্রাসাসমূহে ফিলিস্তিন বিষয়ক আলোচনা সভা, দোয়া এবং সংহতি মিছিল অনুষ্ঠিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।















