পুরনো কর্মস্থলে প্রত্যাবর্তন, পরিচিত শহরে নতুন দায়িত্ব শুরু
ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই স্মৃতিমথিত হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছেন বাংলাদেশের নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন্ট।
দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে সন্ধ্যায় ঢাকায় পা রাখেন বাংলাদেশের নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন্ট। ক্লান্তি থাকলেও চেনা শহরে ফিরে আসার উচ্ছ্বাস ছিল চোখে-মুখে। মঙ্গলবার সকালে প্রাতরাশ শেষে তিনি প্রবেশ করেন বারিধারার স্মৃতিবিজড়িত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস কম্পাউন্ডে—যেখানে একসময় কেটেছে তাঁর কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে এবার তিনি ফিরেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকায়—ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে।
দুপুরের পর তিনি যান সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। সেখানে রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের প্রধান নুরাল ইসলামের সঙ্গে হয় তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। আন্তর্জাতিক রেওয়াজ অনুযায়ী, নতুন কোনো আবাসিক রাষ্ট্রদূতের প্রথম সাক্ষাৎ হয় রাষ্ট্রাচার প্রধানের সঙ্গে, যেখানে পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে শুরু হয় ক্রিডেনশিয়াল সাবমিশনের আনুষ্ঠানিকতা।
পরবর্তীতে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম-এর সঙ্গে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকা এই কূটনীতিকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ক্রিস্টেনসেন্ট। প্রায় ৫০ মিনিট ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুইটি কক্ষে অবস্থান করেন তিনি। আলোচনা ছিল সংক্ষিপ্ত, প্রটোকলভিত্তিক হলেও কথোপকথনের ফাঁকে উঠে আসে ঢাকাকে ঘিরে তাঁর পুরনো স্মৃতির কথা।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন্ট জানান, তিনি প্রথম ঢাকায় আসেন ২০১৪ সালে ব্যক্তিগত সফরে। ২০১৫ সালে স্টেট ডিপার্টমেন্টে বাংলাদেশ ডেস্কে দায়িত্ব পালনকালে করেন প্রথম সরকারি সফর। এরপর ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন মিশনে কর্মরত ছিলেন। করোনাকালে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজেও সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি।
ঢাকার অলিগলি পায়ে না হাঁটলেও গাড়ি ও রিকশায় চলাচলের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে গড়ে উঠেছিল আত্মিক সম্পর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন—সময় পেলে আবার খুঁজে দেখবেন পরিচিত মুখ, চেনা শহরের বদলে যাওয়া রূপ।
৯ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে শপথ গ্রহণের পর ক্রিস্টেনসেন্ট বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আমি গভীরভাবে পরিচিত। এই দেশে ফিরে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের একটি শক্তিশালী দলের নেতৃত্ব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চাই।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ঢাকায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি ঢাকায় সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রদূত পিটার হাস-এর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন, যিনি ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
আগামী বৃহস্পতিবার তিনি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন-এর কাছে পরিচয়পত্র পেশ করবেন। এর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ঢাকায় ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন্টের নতুন কূটনৈতিক মিশন।















