সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ক্রিকেট কূটনীতি; আইপিএল বর্জন এবং বিশ্বকাপের নতুন ভেন্যু দাবি
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের কঠোর অবস্থান দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত সিনিয়র সাংবাদিক এলাহী নেওয়াজ খানের এক উপসম্পাদকীয়তে ভারতের বর্তমান ‘অসহিষ্ণু’ রাজনৈতিক ও সামাজিক চিত্র ফুটে উঠেছে। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে জয়শঙ্কর ঢাকা আসলেও তার প্রস্থানের মাত্র তিন দিনের মাথায় মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাদ দেয় বিসিসিআই। যদিও নিরাপত্তার অজুহাত দেখানো হয়েছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে এটি মূলত ভারতের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান মুসলিমবিদ্বেষ এবং বাংলাদেশের তথাকথিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের মিথ্যা প্রচারণার ফল।
নিবন্ধের মূল পয়েন্টসমূহ:
- বাংলাদেশের পাল্টা ব্যবস্থা: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে তবে ভারতের মাটিতে খেলবে না। বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কা বা অন্য কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুর দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ভারতকে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলবে।
- শশী থারুরের সমালোচনা: কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বিসিসিআই-এর এই সিদ্ধান্তের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানতে চেয়েছেন, মোস্তাফিজের জায়গায় কোনো হিন্দু ক্রিকেটার (যেমন লিটন দাস বা সৌম্য সরকার) থাকলে কি একই আচরণ করা হতো? তিনি এই ঘটনাকে ভারতের কূটনীতির জন্য ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
- আইসিসি-র ভূমিকা ও জয় শাহ প্রসঙ্গ: নিবন্ধে আইসিসি-কে একটি ‘নখদন্তহীন’ সংস্থা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিসিসিআই সচিব ও অমিত শাহর পুত্র জয় শাহর ক্রিকেটীয় জ্ঞান নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে।
- সাংস্কৃতিক অসহিষ্ণুতা: অতীতে শিল্পী মকবুল ফিদা হোসেনকে যেভাবে ভারত ত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে শাহরুখ খানদের মতো মুসলিম তারকাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন লেখক।
- সম্প্রীতির বাংলাদেশ: লেখক দাবি করেছেন, বাংলাদেশে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে (যেমন ময়মনসিংহের ঘটনা) সংখ্যালঘু নির্যাতন হিসেবে প্রচার করা হলেও সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। বিপরীতে, ভারতে গোরক্ষকদের হাতে মুসলিম নিধন নিত্যনৈমিত্তিক হলেও সেখানে সুবিচারের নজির নেই।
ভারতের এই ‘হিন্দুত্ববাদী’ আগ্রাসন কেবল রাজনীতিতে নয়, খেলাধুলার মাঠেও ছড়িয়ে পড়ায় দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে বলে নিবন্ধে সতর্ক করা হয়েছে। লেখক পরিশেষে কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভারতের এই পশ্চাৎপদ মানসিকতার নিন্দা জানিয়েছেন।















