সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে বিটিআরসির পদক্ষেপ; সিমের সীমা ৫টিতে নামানোর পরিকল্পনা
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ দমনের লক্ষ্যে গ্রাহকপ্রতি সিমের সংখ্যা সীমিত করার অংশ হিসেবে ৮৮ লাখেরও বেশি সিমকার্ড বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী একজন গ্রাহকের নামে ১০টির বেশি নিবন্ধিত সিম থাকার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় এই বিপুল সংখ্যক সিম নিষ্ক্রিয় হয়েছে। আরও প্রায় এক লাখ সিম মামলা এবং ভিআইপি কোটার কারণে বর্তমানে স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সিমের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে গ্রাহকপ্রতি ৫টিতে নামিয়ে আনা হবে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে এবং গ্রাহক অসন্তোষ এড়াতে ৫টি সিমের সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্তটি নির্বাচনের পর কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান।
সিম বন্ধের এই প্রক্রিয়ার প্রভাব পড়েছে দেশের মোবাইল ও ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যার ওপর। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা কমেছে প্রায় ১৮ লাখ এবং মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৬২.৬ লাখ হ্রাস পেয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যেখানে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ১২ কোটি ৭৫ লাখ, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৫২ লাখে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিম কার্ডের সংখ্যা সীমিত করা, মোবাইল ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাই এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ। তবে মোবাইল ইন্টারনেট কমলেও দেশে ব্রডব্যান্ড গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি ৪৬ লাখে পৌঁছেছে।
















