কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে উত্তেজনা; পতাকা বৈঠকের পর পিছু হটল ভারতীয় বাহিনী
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন তোয়াক্কা না করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অবৈধ সড়ক নির্মাণ কাজ কঠোর অবস্থানে থেকে বন্ধ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার খলিশাকোঠাল এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক জরুরি পতাকা বৈঠকের পর ভারতীয় পক্ষ তাদের নির্মাণ সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের ভেতর স্থাপনা নির্মাণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গত চার দিন ধরে বিএসএফ-এর পাহারায় রাতের অন্ধকারে এই কাজ চলছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
কুড়িগ্রামের খলিশাকোঠাল সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৩৪-এর উপ-পিলার এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে বিএসএফ-এর উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে বিজিবির অনড় অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন
সীমান্ত আইন অনুযায়ী, শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো দেশের পক্ষ থেকেই স্থায়ী কোনো স্থাপনা বা সড়ক নির্মাণ করা নিষিদ্ধ। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন:
- অবৈধ নির্মাণ: গত চার দিন ধরে বিএসএফ-এর তত্ত্বাবধানে ভারতীয় নির্মাণকর্মীরা খলিশাকোঠাল সীমান্তের ৫০ থেকে ১২০ গজের মধ্যে পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করে।
- রাতের আঁধারে অপতৎপরতা: বিজিবি কয়েক দফা মৌখিক আপত্তি জানালেও বিএসএফ সদস্যরা দিনের বেলা কাজ সাময়িক বন্ধ রেখে রাতের অন্ধকারে পুনরায় নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখে।
বিজিবির কঠোর অবস্থান ও পতাকা বৈঠক
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৃহস্পতিবার দুপুরে খলিশাকোঠাল এলাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আধাঘণ্টাব্যাপী একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১. নেতৃত্ব: বাংলাদেশের পক্ষে লালমনিরহাট–১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বালারহাট ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার আবু তাহের এবং ভারতের পক্ষে কোচবিহার মেঘ নারায়ণকুঠি বিএসএফ ক্যাম্পের ইনস্পেক্টর দীপক কুমার বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। ২. সিদ্ধান্ত: বৈঠকে বিজিবি আন্তর্জাতিক আইনের দোহাই দিয়ে কড়া প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ তাদের ভুল স্বীকার করে এবং কাজ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়।
বর্তমান পরিস্থিতি ও নজরদারি
বালারহাট ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার আবু তাহের জানিয়েছেন, পতাকা বৈঠকের পরপরই বিএসএফ সদস্যরা তাদের সড়ক নির্মাণের সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে আমাদের টহল দল সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা সোলেমান সরকার জানান, বিজিবির টহল জোরদার হওয়ায় বর্তমানে সীমান্তে এক ধরণের স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে ভারতীয় বাহিনী পুনরায় সুযোগ বুঝে কাজ শুরু করে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখনও শঙ্কা কাটেনি।
















