গভীর রাতে খাটিয়ামারী সীমান্তে উত্তেজনা; বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিক জবাব চেয়েছে বিজিবি
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে গুলিবর্ষণ এবং মিস্টার আলী (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের খাটিয়ামারী সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বিএসএফের গুলিতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এ বিষয়ে বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
সীমান্তে বিএসএফের এমন মারমুখী আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিজিবি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে পণ্য পাচারের চেষ্টার সময় এই ঘটনার সূত্রপাত হয়।
যেভাবে ঘটল অপহরণের ঘটনা
রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শফিকুল ইসলাম জানান:
- রাতের অভিযান: একদল লোক ভারত থেকে পণ্য পাচারের চেষ্টা করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি ছুড়তে শুরু করে।
- ছত্রভঙ্গ ও আটক: বিএসএফের গুলিতে পাচারকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মিস্টার আলীকে ধরে নিয়ে যায় তারা। আটক আলী রৌমারী উপজেলার রতনপুর গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে।
বিজিবির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসানুজ্জামান জানান, “আমরা স্থানীয় সূত্রে বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিএসএফের সাথে যোগাযোগ করে ঘটনার সত্যতা এবং ওই যুবকের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ভারতীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি।”
সীমান্তে চলমান সংকট
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তরবঙ্গের সীমান্তে বিএসএফের প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার ও আটকের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার ‘জিরো কিলিং’ ও ‘অমানবিক আচরণ’ বন্ধের দাবি জানালেও সীমান্তে এই ধরণের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। রৌমারী সীমান্তে বিজিবির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং পতাকা বৈঠকের (Flag Meeting) প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
















