ঢাকা চাইছে আরও ২০ মেগাওয়াট নেপালি বিদ্যুৎ
বাংলাদেশের সড়ক, রেল ও নৌপথ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের ট্রানজিট সুবিধা নিতে ১৯৭৬ সালের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় আনুষ্ঠানিক দাবি তুলেছে নেপাল, বিপরীতে বাংলাদেশ আরও বিদ্যুৎ আমদানির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বসছে।
বাংলাদেশ–নেপাল বাণিজ্য ও যোগাযোগ সহযোগিতা নিয়ে ঢাকায় আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং নেপালের পক্ষে দেশটির শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের সচিব রাম প্রসাদ ঘিমিরে নেতৃত্ব দেবেন।
নেপাল ১৯৭৬ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ট্রানজিট সুবিধা চাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে নেপালে রপ্তানি ও তৃতীয় দেশ থেকে নেপালের আমদানি ভারতীয় ভূখণ্ড হয়ে রেলপথে ‘ট্রাফিক ইন ট্রানজিট’ হিসেবে পরিবহন করা হয়। এ ব্যবস্থায় রোহনপুর–সিঙ্গাবাদ ও বিরল–রাধিকাপুর রুট দুটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এবার নেপাল রেলপথের পাশাপাশি জলপথেও এই সুবিধা সম্প্রসারণের দাবি তুলছে।
এদিকে বাংলাদেশ নেপাল থেকে আরও ২০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানির প্রস্তাব দেবে। বর্তমানে ত্রিপক্ষীয় বাংলাদেশ–ভারত–নেপাল চুক্তির আওতায় নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ হচ্ছে।
বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হচ্ছে প্রিফারেন্সিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ)। ২০১৫ সাল থেকে চলা আলোচনার পর নেপালের সঙ্গে পিটিএ চূড়ান্ত করতে চায় ঢাকা, যা ভুটানের পর দ্বিতীয় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি হবে।
পর্যটন খাতেও নতুন সংযোগ তৈরির প্রস্তাব আসছে। নেপাল চায় কক্সবাজার ও পোখরার মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হোক, যা বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের পর্যটন প্রবাহ বাড়বে।
এ ছাড়া রুপি–টাকায় সরাসরি লেনদেনের জন্য একটি দ্বিপক্ষীয় পেমেন্ট সিস্টেম চালুর বিষয়েও আলোচনা হবে, যাতে ভারতীয় ব্যাংকিং মধ্যস্থতা ছাড়াই বাংলাদেশ–নেপাল বাণিজ্য সহজ হয়।
২০২৬ সালে উভয় দেশই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে থাকায়, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করাকে দুই পক্ষই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখছে।
















