জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের বিবরণ যুক্ত; পরিমার্জিত বই বিতরণ শুরু
চলতি শিক্ষাবর্ষের সংশোধিত পাঠ্যবইয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ‘ভোট ডাকাতি’ ও ‘ভোটারবিহীন’ নির্বাচনের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইসাথে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও শহীদ আবু সাঈদের বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিতে বিস্তারিত বিবরণ যুক্ত করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে গত ১৬ বছরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পরিমার্জন করা হয়েছে। নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করে জনগণের সাথে প্রতারণা করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার শাসনকালকে ‘ফ্যাসিবাদী’ ও ‘চোরতন্ত্র’ (Kleptocracy) হিসেবে আখ্যা দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মাধ্যমেই দেশে রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত হয়। এছাড়া দেশ থেকে বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে ধ্বংস করার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।
জুলাই বিপ্লব প্রসঙ্গে পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, কোটা সংস্কার আন্দোলন দমাতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নির্মম হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে। ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের শাহাদাতবরণ এবং পরবর্তীতে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের মধ্য দিয়ে যে গণবিপ্লব সফল হয়, তা ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। পাঠ্যবইয়ে শহীদ আবু সাঈদের ছবি এবং ১৯৮৭ সালের নূর হোসেনের স্মৃতিবিজড়িত আন্দোলনের ছবিও স্থান পেয়েছে। এনসিটিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতের অতিরঞ্জিত ও একপাক্ষিক তথ্য বাদ দিয়ে সত্য ইতিহাস শিক্ষার্থীদের জানানোর লক্ষ্যেই এই পরিমার্জন করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকেই এসব নতুন ও উন্নত মানের বই সারা দেশে বিতরণ শুরু হয়েছে।
















