১১ জানুয়ারি ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কিউবায় আর ভেনেজুয়েলার তেল বা অর্থ যাবে না। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, কমিউনিস্ট শাসিত দ্বীপরাষ্ট্রটির উচিত ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ কিউবার ওপর এভাবে চাপ আরও বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র।
ভেনেজুয়েলা কিউবার সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী হলেও ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে আটক করার পর থেকে ক্যারিবীয় দেশটিতে কোনো তেলবাহী জাহাজ ছাড়েনি বলে সাম্প্রতিক শিপিং তথ্য জানিয়েছে। কঠোর মার্কিন তেল অবরোধের মধ্যেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, কিউবায় আর কোনো তেল বা অর্থ যাবে না—শূন্য। তিনি কিউবাকে ‘দেরি হওয়ার আগেই’ একটি চুক্তিতে আসার পরামর্শ দেন। ট্রাম্প আরও বলেন, বহু বছর ধরে কিউবা ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল ও অর্থের ওপর নির্ভর করে ছিল।
সমঝোতার ধরন নিয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিউবা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য আরও কঠোর হয়েছে। একই দিনে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এমন একটি পোস্টও শেয়ার করেন, যেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভবিষ্যতে কিউবার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন। ট্রাম্প মন্তব্য করেন, বিষয়টি তার কাছে ভালোই শোনায়।
এদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল ট্রাম্পের হুমকি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, কিউবা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং কেউ তাদের নির্দেশ দিতে পারে না। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, কিউবার পক্ষে ন্যায় ও আইনের অবস্থান রয়েছে এবং দেশটি যে কোনো সরবরাহকারীর কাছ থেকে জ্বালানি আমদানির অধিকার রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অবরোধের মধ্যে ২০০০ সালের পর থেকে কিউবা ক্রমেই ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভেনেজুয়েলার পরিশোধন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় সরবরাহ হ্রাস পেলেও দেশটি এখনো কিউবার সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী। গত বছর গড়ে দৈনিক প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ ব্যারেল তেল কিউবায় গেছে বলে নথি ও শিপ-ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, যা কিউবার মোট ঘাটতির প্রায় অর্ধেক পূরণ করত।
মেক্সিকো থেকেও সীমিত পরিমাণে জ্বালানি পায় কিউবা। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, সরবরাহ বাড়ানো হয়নি, তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মেক্সিকো কিউবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হলে কিউবার চলমান অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। দেশটি ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের ঘাটতি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস এবং পর্যটন খাতে মন্দার মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপ এই কঠিন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।














