উচ্চ সুদহার ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় থমকে আছে বিনিয়োগ; কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ
দেশের অর্থনীতি বর্তমানে বহুমাত্রিক ঝুঁকির মুখে রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও তাৎক্ষণিক ঝুঁকি হলো ‘বিনিয়োগ মন্দা’—এমনটাই জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে ‘অপেক্ষার’ নীতি অনুসরণ করছেন। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপি-র তুলনায় ২২.৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হারও গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। সিপিডি সতর্ক করেছে যে, বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান থমকে যাবে এবং এর ফলে সামাজিক অস্থিরতা ও বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।
সিপিডির বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশি ও বিদেশি ঋণের বোঝা বাড়তে থাকায় বাংলাদেশ ধীরে ধীরে ‘ঋণফাঁদের’ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সরকারের ব্যয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ। এছাড়া খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও বাজার সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমছে না। সংস্থাটির মতে, নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রবৃদ্ধি বজায় রেখে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো। তারা মুদ্রানীতির পাশাপাশি কার্যকর বাজার তদারকি, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতে সাহসী সংস্কারের সুপারিশ করেছে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় অর্থের অপব্যবহার রোধে কঠোর নীতিমালা পালনের ওপরও জোর দিয়েছে সিপিডি।
















