নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে নমনীয় নীতি; ক্ষুব্ধ মাঠপর্যায়ের কর্মীরা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র এক মাস বাকি থাকতে দেশজুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
গত ডিসেম্বর মাসেই সারাদেশে অন্তত ৭০টি সহিংস ঘটনায় ১৩ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ রাজধানীর ফার্মগেটে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির এবং চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কেন্দ্রের ‘ধীর প্রতিক্রিয়া’ নিয়ে তৃণমূলে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের পর নয়াপল্টনে তার জানাজায় বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অনুপস্থিতি এবং কেবল একটি শোকবার্তায় সীমাবদ্ধ থাকাকে ‘দায়সারা’ হিসেবে দেখছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, অতীতে এমন ঘটনায় রাজপথ উত্তাল হলেও এখন নির্বাচনের দোহাই দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কার্যত নিশ্চুপ থাকছে। এমনকি রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম খুনের ৫ দিন পার হলেও কেন্দ্রীয় যুবদল থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়নি।
বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতার দাবি, বর্তমানে দল সম্পূর্ণ ‘নির্বাচনমুখী’, তাই কোনো ইস্যু নিয়ে রাজপথে বড় ধরনের আন্দোলনে নামলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে, যা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত অপশক্তির পালে হাওয়া দেবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার চেষ্টা হলেও তা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি কতটা তীব্র তা স্পষ্ট হয়েছে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী এস এম জিলানীর আচরণে। তিনি নির্বাচনি প্রচারণায় প্রকাশ্যে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট প্রদর্শন করে জীবনের হুমকির কথা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতাকর্মী হত্যার ঘটনায় বিচার দাবিতে জোরালো কর্মসূচি না থাকায় তৃণমূলের মনোবল ভেঙে যেতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির ভোট ব্যাংক ও সাংগঠনিক শক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করছে।














