জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ১৯০ আসন নিজের কাছে রেখে শরিকদের ১১০টি ছেড়ে দিচ্ছে জামায়াত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর জোটভুক্ত দলগুলো ৩০০ আসনেই একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) জোটের উচ্চপর্যায়ের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে জানা গেছে, আগামীকাল বা পরশুর মধ্যে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। সমঝোতা অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী ১৯০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং বাকি ১১০টি আসন শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩৮-৪০টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২৫-২৭টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৫টি আসন পাচ্ছে। এছাড়া খেলাফত মজলিস ৭টি, এলডিপি ৬টি, এবি পার্টি ৩টি এবং বিডিপি ২টি আসন পেতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাগপা ১টি করে আসনে লড়বে। তবে ৮ থেকে ১০টি আসনে এখনো একাধিক দাবিদার থাকায় সেগুলো শেষ পর্যন্ত ‘উন্মুক্ত’ রাখা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
জোটের স্বার্থে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থীরা মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে এনসিপি নেতাদের জন্য জামায়াত ও শিবিরের সাবেক শীর্ষ নেতারা তাদের নিশ্চিত আসনগুলো ছেড়ে দিয়েছেন। ঢাকা-১১ আসনে এনসিপি’র নাহিদ ইসলামের জন্য অ্যাডভোকেট অতিকুর রহমান, ঢাকা-৮ আসনে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারির জন্য ড. হেলাল উদ্দিন এবং পঞ্চগড়-১ আসনে সার্জিস আলমের জন্য জামায়াতের স্থানীয় প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেননি। একইভাবে মৌলভীবাজারে মাওলানা মামুনুল হক এবং ফেনীতে মজিবুর রহমান মনজুর জন্য জনপ্রিয় জামায়াত নেতারা মাঠ ছেড়ে দিয়েছেন। ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়ের আগেই এই সমঝোতা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে একযোগে প্রচারণা শুরু করবে এই বিশাল জোট।
















