ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’-এর আওতায় রাজধানীর তিন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৮ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি। মিরপুর, শেরেবাংলা নগর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এই অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’-এর আওতায় ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর মিরপুর, শেরেবাংলা নগর ও যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৪৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান অভিযানের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দিনব্যাপী মিরপুর মডেল থানা পুলিশ বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অর্থাৎ ২৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর মন্ডল (২৮), মো. সাজ্জাত হোসেন (১৯) এবং শাহ আলমসহ (২৯) আরও অনেকে রয়েছেন। অভিযানের সময় তাদের হেফাজত থেকে অপরাধের কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। মিরপুর এলাকার ছিনতাই, মাদক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কায় থাকা ব্যক্তিদের তালিকায় রেখেই এই অভিযান চালানো হয় বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
একই সময়ে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ তাদের এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি ছাড়াও পরোয়ানাভুক্ত এবং সন্দেহভাজন অপরাধীরা রয়েছেন। গ্রেফতারকৃতদের তালিকায় মাহাবুব আলম (৪০), সোহেল রানা (২৮) ও আরিফ হোসেনসহ (২৪) আরও সাতজনের নাম পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ তাদের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। আকাশ (২২), মো. আপন (২২) ও তাসিনসহ (১৯) গ্রেফতারকৃত প্রত্যেকেই গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ধরা পড়েছেন।
ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত ৪৮ জনকেই ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন এবং একই দিন অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর এই দ্বিতীয় পর্যায় অত্যন্ত কঠোরভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। ঢাকার প্রতিটি অলিগলি এবং অপরাধপ্রবণ স্পটগুলোতে পুলিশের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ডিএমপির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।















