মহাসচিব মির্জা ফখরুলের হাত ধরে যাত্রা শুরু; পৃথক কল সেন্টার ও স্টিয়ারিং কমিটির মাধ্যমে চলবে প্রচার তদারকি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য রাজধানীর গুলশানে পৃথক একটি নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধন করেছে বিএনপি। কল সেন্টার সুবিধাসম্বলিত এই অফিস থেকে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচনি স্টিয়ারিং কমিটির যাবতীয় কার্যক্রম ও প্রচার তদারকি করা হবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনি কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে রাজধানীর গুলশানে একটি সুসজ্জিত ও অত্যাধুনিক পৃথক নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধন করেছে দলটি। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে গুলশানের ৯০ নম্বর সড়কের ১০/সি নম্বর বাড়িতে ফিতা কেটে এই নতুন কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মাধ্যমে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের পাশাপাশি নির্বাচনি কাজে ব্যবহারের জন্য দলটির তৃতীয় একটি বড় কেন্দ্র চালু হলো।
কার্যালয় উদ্বোধনকালে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ এবং বিশেষায়িত ‘কল সেন্টার’ বিভাগটি ঘুরে দেখেন। আসন্ন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হওয়ায়, হাতে থাকা এই স্বল্প সময়ে তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রচার কৌশল তদারকিতে এই অফিসটিই হবে বিএনপির ‘নার্ভ সেন্টার’।
নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি যে শক্তিশালী ‘নির্বাচনী স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠন করেছে, তার সামগ্রিক কার্যক্রম এখন থেকে এই অফিস থেকেই পরিচালিত হবে। এখানে দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যারা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সারা দেশের ৩০০ আসনের নির্বাচনি খবরাখবর এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।” রিজভী আরও জানান, এই কার্যালয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সমৃদ্ধ একটি বিশেষায়িত কল সেন্টার চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভোটার ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনার আলাদা অফিসের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “একটি জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করা অত্যন্ত দুরূহ ও বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রার্থী চূড়ান্তকরণ, প্রচারণা তদারকি, নির্বাচনি ইশতেহার জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং বিভিন্ন এলাকার অভিযোগ আমলে নেওয়ার জন্য একটি স্থায়ী কাঠামোর প্রয়োজন ছিল। সেই প্রক্রিয়াটিকে সহজ ও গতিশীল করতেই মূলত এই আলাদা অফিসটি নেওয়া হয়েছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলাদা এই নির্বাচনি কার্যালয় এবং কল সেন্টারের মাধ্যমে বিএনপি এবার অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর ও কৌশলী প্রচারণায় জোর দিচ্ছে, যা আগামী নির্বাচনে দলটির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।
















