সিসিটিভি ফুটেজে খুনিদের মুখ শনাক্ত; কাল দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক স্বেচ্ছাসেবক দলের
রাজধানীর তেজতুরি বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের দুঃসাহসিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। এই ‘টার্গেট কিলিং’-এর নেপথ্যে কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি আন্ডারওয়ার্ল্ডের হাত রয়েছে—তা নিয়ে তদন্তে নেমেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশি তদন্তের মূল মনোযোগ এখন তিনটি বড় প্রশ্নের ওপর। এদিকে, খুনিদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পর আগামীকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল।
গত বুধবার রাতে ফার্মগেটের স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে মোটরসাইকেলে আসা দুই পেশাদার শ্যুটার মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে ৫ রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিতে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় তাঁর বুক ও পাঁজর। বর্তমানে আহত সহযোগী মাসুদ ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন।
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে তিন বড় প্রশ্ন
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের মোটিভ খুঁজে পেতে তিনটি প্রধান বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে:
১. কারওয়ান বাজারের নিয়ন্ত্রণ: কারওয়ান বাজার এলাকার পরিবহন ও শ্রমিক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। মুসাব্বিরের সঙ্গে থাকা আহত আবু সুফিয়ান মাসুদ ভ্যানচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। এই এলাকার বিশাল অর্থনৈতিক আধিপত্য কি এই খুনের মূল কারণ?
২. শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলাম ও জমির বিরোধ: তদন্তে উঠে এসেছে, বসুন্ধরা সিটির পেছনের একটি দামী সরকারি জমি নিয়ে জেলবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলামের গোষ্ঠীর সাথে মুসাব্বিরের বিরোধ চলছিল। কারাগার থেকে কোনো পেশাদার কিলার দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৩. রাজনৈতিক প্রতিহিংসা: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির রাজনীতিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী ছিলেন মুসাব্বির। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো পক্ষ তাঁকে রাজনৈতিক মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে এই পথ বেছে নিয়েছে কি না, তা-ও তদন্তের অধীনে রয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে খুনিদের গতিপথ
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, খুনিরা অত্যন্ত পেশাদার। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কিলিং মিশন শেষ করে তারা সোনারগাঁও হোটেলের দিকে পালিয়ে যায়। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, খুনিরা যাতে সীমান্ত পার হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য সব স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন পয়েন্টে বিশেষ ‘অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
শেষ কথা: ‘কফি আর খাওয়া হলো না’
নিহত মুসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “বের হওয়ার সময় সে বলেছিল—নামাজ পড়ে আসি, একটা কফি বানিয়ে রেখো। সেই কফি আর তার খাওয়া হলো না। ২০ বছর ধরে পানির ব্যবসা করত, রাজনীতিতে মানুষের প্রিয় ছিল। কেন তাকে এভাবে জীবন দিতে হলো?”
স্বেচ্ছাসেবক দলের আল্টিমেটাম ও কর্মসূচি
বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে জানাজা শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। খুনিরা গ্রেফতার না হওয়ায় আগামীকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের সকল জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড কেবল এক ব্যক্তির মৃত্যু নয়, এটি দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিফলন।”
















