সরবরাহ ঘাটতিতে চড়া দামে বিক্রি, আমদানি বাড়াতে সরকারের পাঁচ উদ্যোগ
এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলেও বাজারে গ্যাসের সংকট কাটেনি; সরবরাহ স্বাভাবিক হতে এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রি বন্ধের কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও বাজারে এখনো সংকট রয়ে গেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় দোকান খুললেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অনেক গ্রাহক এলপিজি পাচ্ছেন না, আবার কেউ কেউ দ্বিগুণ দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) সূত্র জানায়, গত বছর অধিকাংশ কোম্পানি পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানি করেনি। মূলত পাঁচটি কোম্পানি সিংহভাগ আমদানি করেছে। ২০২৫ সালে মোট আমদানি ছিল প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ টন, অথচ বিক্রি হয়েছে তার চেয়েও বেশি। ফলে পুরোনো মজুত শেষ হয়ে গিয়ে চলতি বছর তীব্র সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয়।
সরবরাহ কম থাকার সুযোগে সরকারি নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকার সিলিন্ডার কোথাও কোথাও আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবু অনেক এলাকায় এলপিজি মিলছে না। বাধ্য হয়ে কেউ বিদ্যুৎচালিত চুলা ব্যবহার করছেন, কেউ হোটেল থেকে খাবার কিনে চলছেন।
সংকট নিরসনে জ্বালানি বিভাগ ইতিমধ্যে পাঁচ দফা উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শুল্ক ও ভ্যাট কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-কে চিঠি, এলসি সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক-কে অনুরোধ এবং অতিরিক্ত আমদানির অনুমতি দিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-কে অনাপত্তি প্রদান।
শীর্ষ এলপিজি আমদানিকারক ওমেরা এলপিজি-এর পরিচালক ও লোয়াবের সাবেক সভাপতি আজম জে চৌধরী বলেন, বাড়তি আমদানি শুরু হলেও পুরোপুরি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে মেঘনা গ্রুপ-এর ফ্রেশ এলপি গ্যাস বিভাগ।
এর আগে বিইআরসির সঙ্গে বৈঠকের পর ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন। বৈঠকে কমিশন বৃদ্ধি, প্রশাসনিক অভিযান বন্ধ এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়। বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, যারা বাড়তি আমদানি করতে চাইবে, তাদের অনুমোদনে বাধা দেওয়া হবে না।
তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, অপারেটর পর্যায়েই সিলিন্ডারের দাম বেশি হওয়ায় কম দামে বিক্রি সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি আপাতত কমছে না।
















