ভেনেজুয়েলা সংকটের প্রেক্ষাপটে মোদিকে নিয়ে চভনের বিস্ফোরক প্রশ্ন; তোপের মুখে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বিশেষ বাহিনীর আকস্মিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার ঘটনার পর ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের এক নেতার মন্তব্য ঘিরে দেশটিতে চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা পৃথ্বীরাজ চভন প্রশ্ন তুলেছেন, ভেনেজুয়েলার মতো ভারতেও কি এমন কোনো অভিযান হতে পারে? ডোনাল্ড ট্রাম্প কি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকেও অপহরণ করতে পারেন? তার এই ‘অদ্ভুত’ ও ‘অযৌক্তিক’ মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে যেমন সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তেমনি বইছে বিদ্রূপ ও হাসির জোয়ার।

গত সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ঢুকে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে বন্দি করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। এই ঘটনার সূত্র ধরে চভন প্রশ্ন করেন, “ভেনেজুয়েলায় যা ঘটেছে, ভারতেও কি তেমন কিছু ঘটবে? মিস্টার ট্রাম্প কি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকেও অপহরণ করবেন?”
মূলত ভারতের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি এই রূপক তুলনাটি ব্যবহার করেন। তার মতে, সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দিতে না পেরে ট্রাম্প শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ভারতের বাণিজ্য রুদ্ধ করছেন, যা আসলে ভারতের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক মাশুল।
চভনের এই মন্তব্যের পরপরই বিজেপিসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঢল নেমেছে। জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক পুলিশ প্রধান (ডিজিপি) এসপি বৈদ এই মন্তব্যকে ‘পুরো দেশের জন্য অবমাননাকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারতের মতো একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এমন অশিক্ষিত ও বোকার মতো তুলনা কি কংগ্রেসের আসল আদর্শ? সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই চভনের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এমন হালকা মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন।

বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা ও মাদুরোর সাথে যা করেছেন, তা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে চিন্তা করাও দেশদ্রোহিতার শামিল। চভনের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন এর আগের দিনই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে রুশ তেল কেনা নিয়ে ট্রাম্পের এক কথিত অডিও বার্তার সূত্র ধরে মোদিকে আক্রমণ করেছিলেন।
খাড়গের দাবি, ট্রাম্প একটি অডিওতে বলেছেন যে মোদি তাকে খুশি করতে রুশ তেল আমদানি কমাতে রাজি হয়েছেন। খাড়গে এটিকে ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ সিনেমার বিখ্যাত সংলাপ ‘মোগাম্বো খুশ হুয়া’-এর সাথে তুলনা করে কটাক্ষ করেন যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসলে ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছেন।
রাজনৈতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের সরকারি বাণিজ্য তথ্যে দেখা গেছে, উচ্চ শুল্ক সত্ত্বেও গত নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানি ২২.৬১ শতাংশ বেড়ে ৬.৯৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল-নভেম্বর সময়েও আমদানির চেয়ে রপ্তানি বৃদ্ধির হার ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ‘আনপ্রেডিকটেবল’ পররাষ্ট্রনীতি মোকাবিলায় মোদি সরকার যখন ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে, তখন বিরোধীদের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ভারতের মতো একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সাথে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির তুলনা করা ভূ-রাজনৈতিকভাবে হাস্যকর হলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এটি এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
















