চলতি অর্থবছরে ডলার ক্রয়ের পরিমাণ ৩.৫৫ বিলিয়ন ছাড়াল; স্থিতিশীল রয়েছে বিনিময় হার
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফেরাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনার ধারা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ ১৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ২২ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা কেনা হয়। আমদানির চাপ সামাল দেওয়া এবং ডলারের বাজারে তারল্য প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন বছরের শুরুতেই ডলার সংগ্রহের গতি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সর্বশেষ ডলার ক্রয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে।
ডলার ক্রয় ও বিনিময় হার
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, মঙ্গলবার ১৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ২২৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন (২২ কোটি ৩৫ লাখ) মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে।
- বিনিময় হার: প্রতি ডলারের কাট-অফ রেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
- জানুয়ারির পরিসংখ্যান: ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম ছয় দিনেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৪১১ মিলিয়ন ডলার বাজার থেকে সংগ্রহ করেছে।
অর্থবছরের সামগ্রিক চিত্র
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার সংগ্রহের পরিসংখ্যান বেশ আশাব্যঞ্জক: ১. মোট সংগ্রহ: চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৫৪৬ দশমিক ৫০ মিলিয়ন (প্রায় ৩.৫৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে। ২. বাজার স্থিতিশীলতা: আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।
রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজার থেকে ডলার কেনায় দুটি বড় সুবিধা হচ্ছে— প্রথমত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ বাড়ছে; দ্বিতীয়ত, বাজারে টাকার সরবরাহ বাড়ছে যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট কাটাতে সাহায্য করছে। তবে বিনিময় হার ১২২ টাকার উপরে স্থিতিশীল থাকায় আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের দিকেও বিশেষ নজর রাখছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
রপ্তানি আয় এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের উচ্চপ্রবাহ বজায় থাকলে আগামী মাসগুলোতে রিজার্ভের পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
















