ভিসার অপব্যবহার ও ওভারস্টে রোধে কঠোর ট্রাম্প প্রশাসন; তালিকায় রয়েছে আরও ৩৭টি দেশ
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এখন থেকে বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট ৩৮টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার আগে ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত বা ‘ভিসা বন্ড’ জমা দিতে হবে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক হালনাগাদ তালিকায় এ তথ্য জানানো হয়। মূলত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে থেকে যাওয়া (ওভারস্টে) রোধ করতেই এই পাইলট কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, তালিকায় থাকা দেশগুলোর পাসপোর্টধারী কোনো ব্যক্তি যদি ‘বি-১’ (ব্যবসায়িক) বা ‘বি-২’ (ভ্রমণ) ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হন, তবে তাকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড জমা দিতে হবে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার অফিসার আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ঝুঁকি পর্যালোচনা করে এই জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল ও ভুটানকে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই নীতি বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ার আওতায় আবেদনকারীকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে বন্ডের অর্থ জমা দিতে হবে এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ‘I-352’ ফরম পূরণ করতে হবে। তবে এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত। ভ্রমণকারী যদি ভিসার শর্ত মেনে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, তবে এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু যদি কেউ নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন বা সেখানে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের (এসাইলাম) আবেদন করেন, তবে ওই জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে।
জামানত প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহারের শর্তারোপ করা হয়েছে। এগুলো হলো—বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (BOS), জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (IAD)। এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে যাতায়াত করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনেক ভ্রমণকারীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা আর্থিকভাবে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
















