বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে কূটনৈতিক অগ্রগতি থমকে গেল
মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনায় নিমজ্জিত হয়েছে। ইতিবাচক কূটনৈতিক বার্তার পরও ক্রিকেট ইস্যুতে সম্পর্কের উন্নতি এক ধাক্কায় পিছিয়ে গেল।
দেড় বছরের টানাপোড়েনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছিল। কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে বিসিসিআইয়ের আকস্মিক সিদ্ধান্ত সেই অগ্রগতি থামিয়ে দিল।
বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়ে ঘোষণা করেছে, তারা ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। বিসিবি ইতিমধ্যে আইসিসিকে অনুরোধ করেছে তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করতে। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, যা কার্যকরও হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে শুধু মোস্তাফিজ নয়, পুরো বাংলাদেশ অপমানিত ও অসম্মানিত বোধ করছে। ফলে ক্রিকেট ইস্যু এখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি ঢাকা সফরে এসে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়া, তারেক রহমানের হাতে নরেন্দ্র মোদির চিঠি তুলে দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ইঙ্গিত—সবই ছিল সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা। কিন্তু বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে সেই প্রচেষ্টা ভেস্তে গেছে।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে শোকবইয়ে সই করেছিলেন, যা ছিল আরেকটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। কিন্তু ক্রিকেটের কারণে সম্পর্ক আবারও অন্ধ কূপে নিমজ্জিত হলো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিসিসিআইয়ের এই পদক্ষেপ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। ক্রিকেট শুধু খেলা নয়, বরং দুই দেশের মানুষের আবেগ ও কূটনৈতিক মনস্তত্ত্বের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে জয়শঙ্করের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন বড় ধাক্কায় পড়েছে।
















