তারেক রহমান ও শফিকুর রহমানের ব্যয়ের উৎস প্রকাশ; ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ নিয়ে নমনীয় ইসি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে যাওয়া প্রার্থীরা কার পকেট থেকে কত টাকা খরচ করতে পারবেন এবং সেই অর্থের উৎস কী হবে- তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য ও কঠোর নির্দেশিকা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, ভোটার প্রতি ১০ টাকা হারে ব্যয়ের সীমা নির্ধারিত হলেও বড় দলগুলোর শীর্ষ নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যয়ের ধরন নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে প্রথাগত আয়ের উৎসের পাশাপাশি এবার ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ বা গণ-তহবিল সংগ্রহের বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি ও জামায়াত এবার দুই শতাধিক করে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে, ফলে প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবে। ব্যক্তিগত ব্যয়ের ক্ষেত্রেও বড় নেতাদের তথ্যে ভিন্নতা দেখা গেছে।
ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনে লড়তে যাওয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হলফনামায় জানিয়েছেন, তিনি নিজের কৃষি খাত ও ব্যাংক আমানত থেকে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। অন্যদিকে, ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার সম্ভাব্য ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ের মধ্যে ১০ লাখ টাকা নিজের তহবিল এবং ২৫ লাখ টাকা দলীয় অনুদান থেকে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ব্যয়ের নতুন ধারা হিসেবে এবার বেশ কয়েকজন প্রার্থী ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ বা জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের পথ বেছে নিয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির নাহিদ ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার মতো প্রার্থীরা অনলাইনে ও মাঠ পর্যায়ে মানুষের কাছে নির্বাচনি তহবিলের আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “নির্বাচনি ব্যয়ের কথা বলে ব্যক্তি যদি কারো কাছ থেকে স্বেচ্ছায় অর্থ নেন, তাতে ইসির আইনত বাধা দেওয়ার কিছু নেই। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো প্রার্থীরা নির্ধারিত ব্যয়সীমা (সর্বোচ্চ ভোটার প্রতি ১০ টাকা) অতিক্রম করছেন কি না তা তদারকি করা।” তবে রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার বেশি অনুদান নেওয়ার সুযোগ নেই।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, প্রার্থীরা ব্যয়ের বিবরণী জমা দিলেও মাঠপর্যায়ে সেটির প্রকৃত মনিটরিং নিশ্চিত করা ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবে কোনো অসঙ্গতি বা অসত্য তথ্য পাওয়া গেলে দুই থেকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে প্রার্থীদের এই অর্থায়ন ও ব্যয়ের হিসাব এখন নির্বাচন কমিশনের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।
















