নিষিদ্ধ স্টেরয়েড সেবনের দায়ে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত উত্তরাখণ্ডের এই পেসার; উদ্বেগজনক ডোপিং রেকর্ড ভারতের
ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ এবং উত্তরাখণ্ডের বাঁহাতি পেসার রাজন কুমার ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রমাণিত হয়েছেন। তিনটি ভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ ড্রাগ বা পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় ন্যাশনাল অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (নাডা) তাকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। গতকাল সোমবার পিটিআই-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। রাজন কুমার সর্বশেষ ২০২৫ সালের সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে অংশ নিয়েছিলেন।
নাডার পরীক্ষা অনুযায়ী, ২৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের নমুনায় অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ‘ড্রস্টানলোন’ ও ‘মেটেনলোন’ পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি তার শরীরে ‘ক্লোমিফেন’ নামক একটি পদার্থের উপস্থিতিও মিলেছে। সাধারণত এই পদার্থটি নারীদের বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও পুরুষদের শরীরে কৃত্রিমভাবে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে বা পুনরায় বজায় রাখতে সাহায্য করে। ক্রিকেটের মতো খেলায় এমন ডোপিংয়ের ঘটনা বেশ বিরল বলে মনে করা হয়।
এর আগে ২০১৯ সালে ভারতের তারকা ব্যাটার পৃথ্বী শ নিষিদ্ধ পদার্থ ‘টারবুটালিন’ সেবনের দায়ে আট মাসের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। তবে পৃথ্বী দাবি করেছিলেন, তিনি ভুলবশত কাশির সিরাপের মাধ্যমে ওই পদার্থ সেবন করেছিলেন। রাজনের ক্ষেত্রে একাধিক শক্তিশালী স্টেরয়েড পাওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুতর হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বজুড়ে ডোপিং রেকর্ডের দিক থেকে ভারতের বর্তমান অবস্থান বেশ নেতিবাচক। ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (ওয়াদা)-এর বার্ষিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত টানা তিন বছর ডোপিং বিধি লঙ্ঘনকারী দেশগুলোর তালিকার শীর্ষে রয়েছে। রাজনের এই ঘটনা ভারতীয় ক্রিকেটের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে আবারও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। আপাতত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও চূড়ান্ত শুনানির পর তার শাস্তির মেয়াদ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















