পিঠে যন্ত্র ঠেকিয়েই বলে দিচ্ছে জন্মস্থান; অনুপ্রবেশকারী ধরার ‘কৌশল’ না কি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন?
ভারতের উত্তর প্রদেশ পুলিশের এক অদ্ভুত ও হাস্যকর কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কৌসাম্বি এলাকায় এক পুলিশ কর্মকর্তা একটি মোবাইল সদৃশ যন্ত্র দিয়ে এক ব্যক্তিকে ‘বারকোড স্ক্যান’ করার মতো করে স্ক্যান করছেন এবং দাবি করছেন যে যন্ত্রটি ওই ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে শনাক্ত করেছে। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের এমন অবৈজ্ঞানিক ও অদ্ভুত পদ্ধতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা ও বিদ্রূপের ঝড় উঠলেও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার দাবি—এটি ছিল স্রেফ ‘মিথ্যা ধরার কৌশল’।
এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৩ ডিসেম্বর উত্তর প্রদেশের কৌসাম্বি এলাকার একটি বস্তিতে রুটিন অভিযানের সময় এই ঘটনা ঘটে। ভিডিওটি সম্প্রতি ভাইরাল হওয়ার পর টনক নড়েছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।
‘রহস্যময় যন্ত্রের’ আজব দাবি
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা অজয় শর্মা জনৈক এক ব্যক্তির পিঠে একটি যন্ত্র ঠেকিয়ে গম্ভীর মুখে বলছেন, “যন্ত্র বলছে আপনি বাংলাদেশি।” পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, তারা বাংলাদেশি নন, বরং ভারতের বিহার রাজ্যের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা নাছোড়বান্দা; তাঁর দাবি—যন্ত্র বলছে তারা মিথ্যা বলছেন!
ভুক্তভোগীর বয়ান: ১৯৮৭ থেকে ভারতে বসবাস
ভুক্তভোগী ৭৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক জানান, তিনি ১৯৮৭ সাল থেকে গাজিয়াবাদে বসবাস করছেন এবং সেখানে মাছের ব্যবসা করেন। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, “কর্মকর্তারা আমার ২২ বছরের মেয়ের সামনে এই খেলনা যন্ত্র নিয়ে নাটক করেছেন। আমরা বিহারের নাগরিক হওয়ার সব প্রমাণপত্র দেখানোর পরও তারা আমাদের বাংলাদেশি বলে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।”
পুলিশের সাফাই ও তদন্ত
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা অজয় শর্মা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এতে অন্যায়ের কিছু নেই। অনুপ্রবেশকারীরা যাতে ভয়ে সত্যি কথা বলে, সেজন্য কৌশল হিসেবে স্ক্যান করার কথা বলা হয়েছিল।”
তবে উত্তর প্রদেশ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিষয়টিকে সহজভাবে নিচ্ছেন না। স্থানীয় ডিসিপি নিমিশ প্যাটেল জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ইন্দিরাপুরম সার্কেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
নেট দুনিয়ায় এই ভিডিও নিয়ে চলছে হাসাহাসি। অনেকে একে ‘সায়েন্স ফিকশন’ সিনেমার দৃশ্য বলে মন্তব্য করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্র দিয়ে স্ক্যান করে তাঁর জাতীয়তা নির্ধারণ করার মতো অবৈজ্ঞানিক দাবি কেবল অজ্ঞতাই নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রতি জাতিবিদ্বেষী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।
















