মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং চলমান বহুধাপের সাধারণ নির্বাচন শেষে নির্বাচিত সরকারের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন বছরের প্রথম দিনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন এবং এটিকে দেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে উল্লেখ করেন।
১ জানুয়ারি দেওয়া ভাষণে সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হবে, তাদের কাছেই সার্বভৌম ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, দেশের দ্বিতীয় অধ্যায় সফল করতে তারা কাজ করে যাবেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া নির্বাচনের প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হয় ১০২টি টাউনশিপে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৮৩টি টাউনশিপের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে সামরিক সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি মোট ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নির্বাচনের দিন মিন অং হ্লাইং বলেছিলেন, পার্লামেন্টে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে তাঁর বক্তব্য দেওয়া সমীচীন নয়। তবে ১ জানুয়ারির ভাষণে তিনি আবারও নিশ্চিত করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নতুন সরকারের কাছে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।
এ ছাড়া তিনি জানান, ২০০৮ সালের সংবিধান সংশোধন নিয়ে চলমান শান্তি আলোচনায় ৪৩টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এসব বিষয় পরবর্তী সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি। তবে কোন কোন রাজনৈতিক পক্ষ এই আলোচনায় অংশ নিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি জান্তা প্রধান।
ভাষণে মিন অং হ্লাইং দাবি করেন, ২০২৫ সালে মিয়ানমারে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। যদিও পর্যবেক্ষকদের মতে, সাধারণ মানুষ এখনো চরম মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুৎ সংকট, বেকারত্ব এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এর মধ্যেই সামরিক সরকার বাকি নির্বাচন ধাপ এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। জান্তা কর্তৃপক্ষ চলতি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের ভোটে জনগণকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
















